আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সৌদি আরব ও রাশিয়া উত্তোলন কমানোয় সরবরাহ সংকোচনের হার বাড়ছে। আর এ কারণেই জ্বালানিটির বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স। 

চীন বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক। দেশটিতে কভিড-১৯-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার গতি অত্যন্ত স্লথ। ফলে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ বাড়ছে। ফলে অনেক দিন ধরেই নিম্নমুখী ছিল জ্বালানি তেলের বাজার। তবে সৌদি আরব ও রাশিয়া ব্যাপক মাত্রায় উত্তোলন কমানোর ঘোষণা দেয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে পণ্যটির দাম বাড়ছে। 

আইসিই ফিউচারসে গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ২২ সেন্ট বা দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮৬ ডলার ৩৯ সেন্টে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১৯ সেন্ট বা দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলে দাম ৮৩ ডলার ১১ সেন্টে উন্নীত হয়েছে। এক দিনের ব্যবধানে উভয় বাজার আদর্শের দাম ১ ডলার বেড়েছে। 

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত সপ্তাহে টানা ছয় সপ্তাহের মতো বেড়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে। ওপেক প্লাসভুক্ত দেশগুলো থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মূল্যবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত আছে। অন্যদিকে অর্থনীতিকে গতিশীল করার নানা উদ্যোগ চীনেও জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার আশা জাগাচ্ছে। 

চলতি বছরের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদার পূর্বাভাস বাড়িয়েছে রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক। অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়ার আশঙ্কা সত্ত্বেও আগামী বছরের চাহিদা নিয়ে আশাবাদী জোটটি। কারণ চীন ও ভারত অব্যাহত জ্বালানির ব্যবহার বাড়াচ্ছে।

মাসভিত্তিক এক প্রতিবেদনে ওপেক জানায়, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক ২৪ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল করে বাড়তে পারে। আগামী বছর চাহিদা প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে দৈনিক ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও আগামী বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। তবে সংস্থাটির পূর্বাভাসের তুলনায় ওপেক প্লাসের পূর্বাভাস দ্বিগুণ বেশি।

জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে ওপেক ও এর মিত্র জোট ওপেক প্লাসের উত্তোলন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তও বাজারকে চাঙ্গা করে তুলছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে জোটটি গত জুন থেকে আরো ব্যাপক মাত্রায় উত্তোলন কমার পদক্ষেপ হাতে নেয়।