সাতক্ষীরায় অব্যাহত বাড়ছে আদা-রসুনের দাম। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি রসুনের দাম ৪০-৫০ টাকা এবং আদার দাম বেড়েছে ২০-২৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কম থাকায় পণ্য দুটির এ দর বৃদ্ধি ঘটছে। অন্যদিকে সরবরাহ বাড়ায় কেজিপ্রতি ২৫-৩০ টাকা কমেছে দেশী পেঁয়াজের দাম। গতকাল সাতক্ষীরা জেলা সদরের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক মোকাম সুলতানপুর বড় বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।

সাতক্ষীরা বাজার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, মসলাসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যারা কারসাজি করে বাড়াবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। প্রশাসন এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

জেলা শহরের ইটাগাছা মহল্লার বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও রসুন ও আদার দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। বাজার ব্যবস্থায় কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে এসে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন। ১২-১৪ দিন আগেও যে রসুনের কেজি ছিল ১৯০-২০০ টাকা এখন তা কিনতে হচ্ছে ২৫০ টাকা দরে। একইভাবে ১৬০ টাকা কেজি দরের আদা কিনতে হচ্ছে ১৯০ টাকা করে।’

সুলতানপুর বড় বাজারের পাইকারি মসলা আড়ৎ ও বিপণন প্রতিষ্ঠান মেসার্স আশা ভান্ডারে গতকাল আমদানীকৃত রসুন বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৫০ টাকা কেজি দরে। আর প্রতি কেজি আদা বিক্রি হয়েছে ১৯০ টাকা দরে। দুই সপ্তাহ আগেও এ প্রতিষ্ঠানে আমদানীকৃত রসুন ২০০ টাকা ও আদা ১৬০-১৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মবিরুল ইসলাম কবির জানান, স্থানীয় চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ কম থাকায় আদা-রসুনের দাম বেড়েছে। তাছাড়া আমদানীকৃত পণ্যের বাজারদর একরকম থাকে না। ওঠানামা করে। তাছাড়া ডলার সংকটের কারণেও অধিকাংশ মসলাপণ্যের আমদানি খরচ বেড়েছে। এসব কারণে দাম বেড়েছে।

এদিকে পেঁয়াজের দাম কমে গেছে সাতক্ষীরার বাজারে। গতকাল সুলতানপুর বড় বাজারের শাওন এন্টারপ্রাইজে দেশী পেঁয়াজ ৭০-৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, যা ১৫ দিন আগেও ৯০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কৃষকরা পুরোদমে পেঁয়াজ তুলতে শুরু করায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে দাম কমেছে পণ্যটির।

সাতক্ষীরা জেলা মার্কেটিং অফিসার আবু সাঈদ মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘যেসব ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত মুনাফার লোভে মসলাপণ্যের দাম বেশি নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাতীয় নির্বাচন কেবলই শেষ হলো। আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’