বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি উৎপাদন করতে চায় প্যানাসনিক হোল্ডিংস করপোরেশন। চলতি বছরেই উৎপাদন শুরু করার কথা ভাবছে জাপানিজ বহুজাতিক ইলেকট্রনিকস কোম্পানিটি। প্যানাসনিকের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) শোইচিরো ওয়াতানাবে সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।

উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে ব্যবসা প্রসারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে প্যানাসনিক কর্তৃপক্ষ। নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে সেখানে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে তারা। এক্ষেত্রে ইভি ব্যাটারি খাতে একদিনে ২০০ গিগাওয়াট ঘণ্টা জ্বালানি সরবরাহ করতে চায় তারা। এদিকে ‘‌৪৬৮০ সেল’ নামে আরো একটি ব্যাটারি তৈরি করতে কাজ করছে প্যানাসনিক। যেটি খানিকটা পুরু ও মোটা।

এক সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়ে সিটিও শোইচিরো ওয়াতানাবে বলেন, ‘‌নেভাদায় আমাদের উৎপাদন কারখানায় ২০২৪ বা ২০২৫ সালের মধ্যে ২১৭০ সেলের একটি সংশোধিত সংস্করণের উৎপাদন শুরু হবে।’

২০৩০ আর্থিক বছরের মধ্যে নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা চার গুণে উন্নীত করতে চায় ওসাকাভিত্তিক ইলেকট্রনিকস পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। শোইচিরো ওয়াতানাবের মতে, এ লক্ষ্য পূরণে নতুন কারখানা স্থাপন কিংবা বড় অংকের বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়বে না প্যানাসনিকের। তিনি বলেন, ‘‌আমরা ব্যাটারির সক্ষমতা উন্নত করতে চাই। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতাও বাড়াতে চাই।’

শোইচিরো ওয়াতানাবের মতে, ২০২৫ আর্থিক বছরের মধ্যে উৎপাদন সক্ষমতা ১০ শতাংশ বাড়াতে নতুন উৎপাদন লাইন কিংবা বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না।

তিনি বলেন, ‘‌টেসলা ইনকরপোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত নেভাদা কারখানায় পরবর্তী প্রজন্মের ইভি ব্যাটারি উৎপাদনের সময় সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আর এ সিদ্ধান্তও যৌথভাবেই নেয়া হবে, একতরফাভাবে নয়।’

ইভি ব্যাটারির বিকাশে সম্প্রতি প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করছে প্যানাসনিক কর্তৃপক্ষ। তাদের লক্ষ্য, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসতে যেন পিছিয়ে পড়তে না হয়। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব, নবায়নযোগ্য ও কার্বন নিরেপক্ষ জ্বালানি উৎসগুলোয় স্থানান্তর করা যায়।

টোকিওতে গতকাল সকালের লেনদেনে প্যানাসনিকের শেয়ার ১ শতাংশেরও কম কমেছে। গত বছর ২৬ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার পর চলতি বছর স্টকটি বেশির ভাগ সময়ই অপরিবর্তিত রয়েছে।

প্যানাসনিক বর্তমানে উত্তর আমেরিকায় কানসাসে তাদের দ্বিতীয় ব্যাটারি কারখানা নির্মাণ করছে। এছাড়া তৃতীয় কারখানাটি কোথায় স্থাপন করা হবে, তা পরে জানাবে কোম্পানিটি। বর্তমানে ৫০ গিয়াওয়াট ঘণ্টা থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ব্যাটারি উৎপাদন সক্ষমতা ২০০ গিগাওয়াট ঘণ্টায় উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছে প্যানাসনিক।