পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার রফতানি নিম্নমুখী রয়েছে। তবে দেশটিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী হয়েছে। ফলে ডিসেম্বরেও রুশ কারখানা কার্যক্রম প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে। পাশাপাশি এ খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির হারও ২১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।

রেটিং এজেন্সি এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের উৎপাদন খাতের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) ডিসেম্বরে ৫৩ পয়েন্টে নেমেছে। যদিও নভেম্বরে এ হার ৫৩ দশমিক ২ পয়েন্টে ছিল। নভেম্বরের রিডিং ২০১৭ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ ছিল। ডিসেম্বরের পিএমআই নভেম্বরের থেকে কম হলেও তা ২০২০ সালের আগস্টের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের ওপরে বৃদ্ধি এবং এর নিচে সংকোচন নির্দেশ করে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল জানিয়েছে, নতুন ক্রয়াদেশ বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়ার উৎপাদন খাতে এমন ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। তবে রফতানি ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় এ খাতে নেতিবাচক প্রবণতার চাপ রয়ে গেছে। ইউক্রেনে আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে মস্কোর ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রফতানি ক্রয়াদেশ হারিয়েছে রাশিয়া। এছাড়া রুশ কারখানাগুলোয় সরবরাহকারীদের ডেলিভারির সময়ও ডিসেম্বরে দীর্ঘায়িত হয়েছে। কারণ সরবরাহকারীদের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে গত অক্টোবরে রাশিয়ার উৎপাদন খাতটি গতি হারিয়ে ফেলেছিল। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তরুণদের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেয়ার নির্দেশ দিলে এমন অবস্থা তৈরি হয়েছিল। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে তিন লাখ কর্মীকে সেনাবাহিনীতে যোগদানের জন্য খসড়া করা হয়েছিল। যদিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ সংখ্যাকে ১০ বলে দাবি করেছিল। তবে তার পর থেকে রুশ অর্থনীতি স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ডিসেম্বরের উৎপাদন প্রত্যাশা ২০১৯ সালের মার্চের রেকর্ডের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।

উৎপাদন খাতের কার্যক্রমের সঙ্গে সঙ্গে এ খাতের কর্মসংস্থানও বেড়েছে। খাতটিতে নতুন কর্মসংস্থান ২০০১ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ।