চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বড় লোকসানের মুখোমুখি হয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং। এ সময় প্রত্যাশার তুলনায় আয় কমে যাওয়া সত্ত্বেও তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। খবর সিএনবিসি।
আর্থিক কোম্পানি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্যানুসারে, জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি ২ ডলার ৯০ সেন্ট লোকসান দিয়েছে বোয়িং, যা প্রত্যাশিত ১ ডলার ৯৭ সেন্টের তুলনায় বেশি। ১ হাজার ৭২৩ কোটি ডলার প্রত্যাশা করা হলেও আয় করেছে ১ হাজার ৬৮৭ কোটি ডলার। দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয়ের এ পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম।
আর্থিক প্রতিবেদনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডেভ ক্যালহাউন বলেন, ‘চ্যালেঞ্জিং একটি প্রান্তিক পার করা সত্ত্বেও আমরা আমাদের গুণগত পরিচালনা পদ্ধতি এবং ভবিষ্যতের জন্য কোম্পানির অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি করেছি।’
এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বিভিন্ন খাতে ৪৩০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে বোয়িং। কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) ব্রায়ান ওয়েস্ট বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদে মূলধন চাপের কারণে তৃতীয় প্রান্তিকেও ব্যয় অব্যাহত থাকবে।’
এলএসইজি তথ্যানুসারে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১৪৪ কোটি ডলার লোকসান দিয়েছে বোয়িং, শেয়ারপ্রতি এর পরিমাণ ২ ডলার ৩৩ সেন্ট। ২০২৩ সালের একই সময়ে লোকসান হয়েছিল ১৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার, শেয়ারপ্রতি ২৫ সেন্ট।
গত জানুয়ারিতে মাঝ আকাশে আলাস্কা এয়ারলাইনসের ৭৩৭ ম্যাক্স ফ্লাইট থেকে দরজা খুলে পড়ে যায়। এরপর থেকে একের পর এক সুরক্ষাসংক্রান্ত বিপত্তিতে পড়ে বোয়িং। ফলে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী উড়োজাহাজ নির্মাণ ও সরবরাহ পিছিয়ে গেছে কোম্পানিটির। এছাড়া ২০১৮ ও ১৯ সালের দুটি দুর্ঘটনার পর নিষ্পত্তি চুক্তি লঙ্ঘন করায় বড় ধরনের জরিমানায় পড়েছে বোয়িং। সব মিলিয়ে অস্থির সময় পার করছে বিশ্বের অন্যতম এ উড়োজাহাজ নির্মাতা জায়ান্ট।
বোয়িংয়ের ব্যবসার আরেকটি অংশ হচ্ছে প্রতিরক্ষা খাত। সেখানেও লোকসান দিতে হয়েছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য বোয়িং ৭৪৭ মডেলের দুটি উড়োজাহাজ তৈরি করছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে বোয়িংয়ের প্রতিরক্ষা খাতে আয় ২ শতাংশ কমে ৬০২ কোটি ডলার হয়েছে। এ সময়ে লোকসান হয়েছে ৯১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে লোকসানের পরিমাণ ছিল ৫২ কোটি ৭০ লাখ ডলার।










