লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের নিবন্ধিত গুদামগুলোয় অ্যালুমিনিয়ামের মজুদ বেড়ে এক মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মজুদ বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটিতে এলএমইর গুদামগুলোয় ধাতুটির মজুদ দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৭২৫ টনে। এলএমই সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।

এলএমইতে অ্যালুমিনিয়ামের মজুদ প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ৫ লাখ ২৯ হাজার ৭৭৫ টনে উন্নীত হয়েছে, যা ১২ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। দক্ষিণ কোরিয়ার জোয়াংইয়াং বন্দরে নতুন করে বিপুল পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম মজুদ হওয়ায় মোট মজুদে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। 

মজুদ বৃদ্ধির তথ্য মূলত বাজারে ধাতুটির উদ্বৃত্তের দিকেই ইঙ্গিত করছে। বিনিয়োগকারীরা ধাতুটির চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় আছেন। কারণ শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহারকারী দেশ চীনে কারাখানা কার্যক্রমের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। লম্বা সময় ধরেই বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে আবাসন খাত। অ্যালুমিনিয়ামনির্ভর এসব খাত দুর্বল হয়ে পড়ায় ধাতুটির চাহিদাও কমছে। এর ফলে দামও নিম্নমুখী। 

এদিকে চীনে ধাতুটির উৎপাদন বৃদ্ধির তথ্য মিলেছে। বিশেষ করে জুলাইয়ে উৎপাদন রেকর্ড স্পর্শ করেছে। জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ায় দক্ষিণ-পশ্চিম প্রদেশ ইউনানের বিগলন প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়েছে, যা দেশটির মোট উৎপাদনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

চলতি বছরের এখন পর্যন্ত এলএমইতে অ্যালুমিনিয়ামে তিন মাস সরবরাহ চুক্তির গড় দাম ৯ শতাংশ কমেছে। ঊর্ধ্বমুখী মজুদ ও দুর্বল চাহিদার প্রভাবেই দাম কমতির দিকে। এদিকে বিনিয়োগকারীরা ধাতুটির মজুদ পরিস্থিতির ওপর খুব কাছ থেকে নজর রাখছেন। কারণ এলএমইর গুদামগুলোর একটি জায়গা দখল করে আছে রাশিয়া। কিন্তু অনেক ক্রেতাই বর্তমানে দেশটি থেকে অ্যালুমিনিয়াম কিনছেন না। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতেই এ নীতি অনুসরণ করছেন ক্রেতারা। এলএমই জানায়, জুলাইয়ে নিবন্ধিত গুদামগুলোয় যে পরিমাণ মজুদ ছিল তার ৮১ শতাংশ ছিল রাশিয়ায়। 

চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রাইমারি অ্যালুমিনিয়ামের বৈশ্বিক উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৪২ লাখ ১২ হাজার টনে। এ প্রবৃদ্ধিতে চীনের ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন রসদ জুগিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল অ্যালুমিনিয়াম ইনস্টিটিউট (আইএআই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

অ্যালুমিনিয়াম মূলত পরিবহন, ভবন নির্মাণ ও প্যাকেজিং খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়। ধাতুটির উৎপাদন জ্বালানিনির্ভর। গত বছরের জ্বালানি সংকটের জেরে এ বছরের প্রথমার্ধে ইউরোপের দেশগুলোয় অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন কমেছে। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাশিয়ায়ও এটির উৎপাদন বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছে। 

আইএআই জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে চীনে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টনে। 

রাশিয়া গত বছরের শুরুর দিকে ইউক্রেনে হামলা চালালে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দেয়। এ সংকটে বেড়ে যায় জ্বালানি পণ্যের দাম। ফলে পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপের দেশগুলোয় অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক কারখানা উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। চলতি বছরও সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশগুলো। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশগুলোয় ১৩ লাখ ৪৫ হাজার টন প্রাইমারি অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন হয়েছে।