অস্ট্রেলিয়া শীতকালীন গম উৎপাদনের পূর্বাভাস প্রায় এক লাখ টন বাড়িয়েছে। সংশোধিত পূর্বাভাস অনুযায়ী মোট ফলন দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৫৫ লাখ টনে। তবে তা গত বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ কম। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রিসোর্স ইকোনমিকস অ্যান্ড সায়েন্সেস (এবিএআরইএস)। খবর রয়টার্স।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত বছরও শুষ্ক আবহাওয়ায় গমের ফলন কমেছিল। এ বছর তা আরো তীব্র হয়েছে। তবে প্রান্তিকওয়ারি প্রতিবেদনে এবিএআরইএস জানিয়েছে, বার্লি ও ক্যানোলা উৎপাদনের পরিমাণ তিন মাস আগের দেয়া পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা বাড়তে পারে।
অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় খাদ্যশস্য রফতানিকারক। দেশটি থেকে গমের ব্যাপক সরবরাহে এ বছর খাদ্যশস্যটির গড় দাম তিন বছরের নিম্নমুখী ছিল। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও আর্জেন্টিনায় তুলনামূলক কম ফলনের জন্য বর্তমানে বৈশ্বিক সরবরাহ কমতে শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় প্রচুর বৃষ্টিপাতে অস্ট্রেলিয়ায় গমের রেকর্ড ফলন পেয়েছেন কৃষক। কিন্তু এ বছর এল নিনোর প্রভাবে দেশটির আবহাওয়া রেকর্ড শুষ্কতম ও উষ্ণতম করে তুলেছে। ফলে গমের ফলন ব্যাহত হয়েছে।
এবিএআরইএস জানিয়েছে, শীতকালীন গমের উৎপাদন পূর্বাভাস বাড়ানোর পরও তা ১০ বছরের গড়ের চেয়ে ৪ শতাংশ কম।
তিন মাস আগে ১ কোটি ৫ লাখ টন বার্লি উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি। সর্বশেষ প্রতিবেদনে ওই পূর্বাভাস সংশোধন করে ২৪ শতাংশ বাড়িয়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন ফলনের কথা জানিয়েছে এবিএআরইএস। তবে এটিও ১০ বছরের গড় উৎপাদনের তুলনায় ৪ এবং গত বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ কম।
ক্যানোলা উৎপাদনের পরিমাণও গত বছরের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ১০ বছরের গড় উৎপাদনের চেয়ে এ বছর শস্যটির ফলন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৩ সালে ক্যানোলার ফলন দাঁড়াতে পারে ৫৫ লাখ টনে, যা সেপ্টেম্বরের প্রাথমিক ৫২ লাখ টন পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি।
অস্ট্রেলিয়ার উত্তরাঞ্চলে ফসলের প্রত্যাশিত ফলন না এলেও দক্ষিণাঞ্চলে ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছে এবিএআরইএস। সেপ্টেম্বরে বৃষ্টিপাতের ফলে ফলন বাড়লেও সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ঝড়ের কারণে গমের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
গ্রীষ্মকালীন ফসলসংক্রান্ত পূর্বাভাসে এবিএআরইএস বলছে, সরগামের উৎপাদন ৪৫ শতাংশ কমতে পারে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে শস্যটির উৎপাদন নামতে পারে ১৫ লাখ টনে। তুলা (কটন লিন্ট) উৎপাদন ২৬ শতাংশ কমে দাঁড়াতে পারে ৯ লাখ ২৫ হাজার টনে। তবে চাল উৎপাদন ৩৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়াতে পারে সাত লাখ টনে।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রিসোর্স ইকোনমিকস অ্যান্ড সায়েন্সেস জানিয়েছে, ২০২৩-২৪ বিপণন বছরে দেশটিতে উৎপাদিত মোট শস্যের মূল্য ১ হাজার ২০০ কোটি কমে নামতে পারে ৪ হাজার ৬০০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারে (৩ হাজার মার্কিন ডলার)।










