জীবনযাপনের বাড়তি খরচের চাপে উদ্বিগ্ন সিঙ্গাপুরের প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক। আগের বছরের তুলনায় এবার ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিবেশের জন্য মাত্রাটা মোট ১১ পয়েন্ট বেড়েছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকের (ইউওবি) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর স্ট্রেইটস টাইমস।
সিঙ্গাপুরের ৭০ শতাংশ নাগরিকই মনে করেন, ছয় মাসের মধ্যে দেশ একটি মন্দার মুখে পড়তে যাচ্ছে। এ হারও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৭ শতাংশ। গত জুনে বার্ষিক জরিপের অংশ হিসেবে মোট ৩ হাজার ৫০০ জনের সাক্ষাত্কার নিয়েছে ইউওবি। বিভিন্ন বয়সের ও অর্থনৈতিকভাবে ভিন্ন অবস্থানের সিঙ্গাপুরের এক হাজার নাগরিকও এ জরিপে অংশ নিয়েছিলেন।
গবেষণা বলছেন, এখন ভোক্তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন পর্যাপ্ত সঞ্চয় রাখার ওপর। আগামীতে অবসর গ্রহণের পরের পরিকল্পনাও করছেন তারা এবং কেউ কেউ নিজের ও পরিবারের জন্য শুধু জরুরি জিনিসপত্রই কিনতে সক্ষম হচ্ছেন বলে উঠে এসেছে গবেষণায়।
ইউওবির গ্রুপ পার্সোনাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের প্রধান জ্যাকুলিন ট্যান বলেন, নতুন করে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতির দ্বার উন্মুক্ত হওয়ায় ভোক্তাদের খরচের মাত্রা আবার করোনা মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিরে গিয়েছিল। কভিডের কারণে ভ্রমণ স্থগিত থাকায় কয়েক বছর টানা বেশি সঞ্চয় প্রবণতা দেখা যায় সারা বিশ্বে।
তিনি সাংবাদিকদের জানান, যদি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের দিকে নজর রাখেন তাহলে দেখবেন খরচের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তির দিকে রয়েছে। কেননা উৎসব ও ভ্রমণের মৌসুম পুনরায় ফিরে এসেছে। আর আমার মনে হয় সেটা একটা পর্যায় পর্যন্ত স্বাভাবিক থাকবে।
জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ভোক্তাদের নিয়মিত দৈনন্দিন খরচের গড় মাত্রা বেড়েছে অনেক বেশি এবং সেই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে অনেক। তার পরও এখন ভোক্তারাও বেশি বেশি ব্যয় করছেন। নাগরিকদের গড়ে ট্যাক্সি যাত্রার খরচই বেড়েছে ১১৪ শতাংশ, ইউটিলিটি ব্যয় বেড়েছে ২২ শতাংশ, জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে ১৫ শতাংশ এবং বাইরে খাওয়ার ক্ষেত্রে খরচ বেড়েছে ১০ শতাংশ।
কিন্তু সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা এখন আগামী দিনের জন্য পরিকল্পনা করছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিনিয়োগ করে তারা নিজেদের অর্থের পরিমাণ বাড়াচ্ছেন। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা থেকে নিজেদের সুরক্ষার জন্য ইন্স্যুরেন্স করছেন।
ইউওবির ভোক্তারা ফিক্সড ডিপোজিটও করছেন বেশি বেশি। যদিও এসব ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাংকে সুদের হার বেড়েছে। যেটা ২০২২ সালের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় জুলাই ও আগস্টে বেড়েছে ৩৭০ শতাংশ। তাছাড়া সিঙ্গাপুর সেভিংস বন্ড এবং ট্রেজারি বিল কেনার ক্ষেত্রেও এই একই সময়ে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে ৪৬২ শতাংশ।
চলতি বছরে এ সময়ে আগের বছরের তুলনায় ইন্স্যুরেন্স পলিসি গ্রহণ বেড়েছে ২০ শতাংশ। জ্যাকুলিন ট্যান বলেন, চাকরি বা কর্মসংস্থানকে এখন সবাই বাড়তি বিবেচনায় রাখছে। কারণ কভিড আমাদের শিখিয়েছে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য পরিকল্পনা করে রাখতে হয়। হঠাৎ চাকরি হারিয়ে যেতে পারে। বন্ধ হয়ে যেতে পারে আয়ের পথ। সেজন্য অন্তত তিন থেকে ছয় মাসের জন্য সঞ্চয় থাকা দরকার।










