হংকংয়ে প্রবেশের পর যাত্রী ও ক্রুদের তিনদিনের হোটেল কোয়ারেন্টিনের নিয়ম বাতিল করা হয়েছে। এতে ফ্লাইট সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ক্যাথে প্যাসিফিক। আগামী মাসগুলোয় ধীরে ধীরে ফ্লাইট সক্ষমতা বাড়বে বলে জানিয়েছে হংকংভিত্তিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটি।

রয়টার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যাত্রী ও ক্রুদের কোয়ারেন্টিনের কঠোর নিয়মনীতির কারণে এত দিন স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধার সম্মুখীন হয়েছে ক্যাথে প্যাসিফিক।

গত জুলাইয়ে সংস্থাটির যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা কভিডজনিত মহামারীপূর্ব স্তরের তুলনায় ১২ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল। এ সময়ে সংস্থাটির কার্গো সক্ষমতা ছিল প্রাক-কভিড পর্যায়ের ৫১ শতাংশ। কার্গো ক্রুরা কোয়ারেন্টিনের নিয়মের আওতামুক্ত থাকায় পণ্য সরবরাহ বেড়েছিল সংস্থাটির।

উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফ্লাইট সক্ষমতা কভিড-১৯পূর্ব স্তরের ২৫ শতাংশে পৌঁছবে। যাত্রী ও ক্রুদের তিনদিনের কোয়ারেন্টিনের নিয়ম বাতিলের পূর্বে সংস্থাটি এ পূর্বাভাস দিয়েছিল।

বর্তমানে যত দ্রুত সম্ভব বাতিল হওয়া আগের ফ্লাইটগুলো পুনরায় চালু করবে সংস্থাটি। তবে ক্রুদের প্রশিক্ষণ এবং বসিয়ে রাখা উড়োজাহাজগুলো পুনরায় সক্রিয় করতে যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। সে কারণে ফ্লাইট সক্ষমতা বাড়াতেও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে ক্যাথে প্যাসিফিক।

উড়োজাহাজ সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, পুনরায় ফ্লাইট চালু করার বিষয়টি অন্যান্য অপারেশনাল কাজের জটিলতার সঙ্গে জড়িত। এ কারণে আগামী কয়েক মাসে ফ্লাইটের সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করা হবে।

ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, অপারেশনাল কাজের চাহিদা পূরণের জন্য অতিরিক্ত ৪ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে ক্যাথে। ভ্রমণ পুনরুদ্ধার করতে আগামী ১৮-২৪ মাসের মধ্যে এ কর্মী নিয়োগ করা হবে। এর আগে মহামারী চলাকালে উড়োজাহাজ সংস্থাটি ছয় হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল।

এদিকে কঠোর কোয়ারেন্টিনের নিয়মনীতির কারণে পাইলটদের কাজের চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছে। পাশাপাশি তাদের স্থায়ী বেতনের ৫৮ শতাংশও কর্তন করা হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে সংস্থাটির সামগ্রিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্প্রতি হংকং সরকার জানায়, শহর ত্যাগের সময়ে ক্রুদের এক উড়োজাহাজ থেকে অন্য উড়োজাহাজে যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে তাদের হোটেল কক্ষে অবস্থান করতে হবে।