মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন ঝুঁকি নিয়ে এসেছে। মহামারীর অভিঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহ চেইনে যে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছিল, তা দীর্ঘ হতে পারে ইসরায়েল-হামাস সংঘাতে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পথে বাড়তি চাপ তৈরি করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য। খবর রয়টার্স।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দফায় দফায় সুদহার বাড়িয়েছে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিছুটা সফলতাও দেখা দিয়েছে সম্প্রতি। ইতিবাচক ফল পেয়ে আগামী বছর থেকে সুদহার কমানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। তবে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সে প্রতীক্ষাকে আরো দীর্ঘ করতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত। ব্যাংক অব ইন্টারন্যাশনাল সেটলমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অগাস্টিন কার্সটেন বলেন, ‘এত দ্রুত কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে জ্বালানি তেল ও পুঁজিবাজারে সংঘাতের প্রভাব দ্রুতই দৃশ্যমান হবে।’
নিহতের সংখ্যা এর মধ্যে হাজার অতিক্রম করে গেছে। বৈশ্বিক নেতাদের পক্ষ থেকে মন্তব্য এলেও যুদ্ধ বন্ধের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, সংঘাতের ক্ষত আরো দীর্ঘ হবে। তীব্র করে তুলবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাকে। মধ্যপ্রাচ্যে একদিকে রয়েছে ইরান ও সৌদি আরবের মতো জ্বালানি তেলের উৎস। অন্যদিকে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, বাবেল মান্দেব প্রণালি ও সুয়েজ খালের মতো সংযোগপথ। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা জ্বালানি তেল উৎপাদনের পাশাপাশি সরবরাহ চেইনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যার প্রভাব দৃশ্যমান হবে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে।
অর্থনীতি বিবেচনা করেই সুদহার উঁচুতে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও হেঁটেছে একই পথে। আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এ মুহূর্তে যেকোনো ঝুঁকিই অনিশ্চয়তাকে দীর্ঘ করবে। সেদিকে ইঙ্গিত করেই মার্কিন আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান নর্দার্ন ট্রাস্টের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ কার্ল ট্যানেনবাউন বলেন, ‘ˆযকোনো কারণে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব হয়। ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ওই অঞ্চল এ মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সেখান থেকেই জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রিত হয়।’
চলতি সপ্তাহেই মরক্কোয় অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সভা। আলোচনা হবে মহামারী সময়ের পর থেকে বৈশ্বিক বাণিজ্যে যেসব অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে তা নিয়ে। তার ঠিক আগে এমন ঘটনা নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করবে নীতিনির্ধারকদের। স্বর্ণ ও জ্বালানি তেলের মূল্য এর মধ্যেই বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলো ফ্লাইট বাতিল করেছে। এ ক্ষত থেকে পুঁজিবাজার মুক্ত থাকবে না। প্রশ্ন হলো ক্ষত কতটুকু দীর্ঘ হয়।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক জ্বালানি তেলের মূল্য। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রচেষ্টাগুলো এতদূর এসে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। থ্রি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান অর্থনীতিবিদ কারিম বাস্তা দাবি করেন, ‘সংঘাত জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়াবে। বিষয়টি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যও নেতিবাচক।’










