পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (এসপিসিএল) প্লান্টের কার্যক্রম বন্ধ হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ প্রায় শেষ হওয়ায় এ তথ্য জানিয়েছে এসপিসিএল। গতকাল ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুসারে, বিপিডিবির সঙ্গে এসপিসিএলের ১৫ বছরের দীর্ঘমেয়াদি রেন্টাল চুক্তির মেয়াদ ৯ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে শেষ হবে। এ সময় থেকে প্লান্টটির কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং জাতীয় গ্রিড থেকে বন্ধ করা হবে। এরই মধ্যে এসপিসিএল নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট ভিত্তিতে আরো পাঁচ বছরের জন্য বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নবায়নের আবেদন করেছে। বিষয়টি বিপিডিবির কাছে বিবেচনাধীন। আশা করা হচ্ছে, এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে। 

অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানির চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) শেয়াপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৩৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান ছিল ৯১ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকা ৯ পয়সায়। 

সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৫২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ১৪ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৬ টাকা ৭১ পয়সায়। 

সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ২০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদানের সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে ১৬ শতাংশ নগদ ও ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। 

সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটি মোট ৩২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে ২৮ শতাংশ নগদ ও বাকি ৪ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। ২০১৯-২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৩০ শতাংশ দিয়েছিল শাহজিবাজার পাওয়ার। এর মধ্যে ২৮ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস ছিল ৪ টাকা ৪৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ২৩ পয়সা। ২০১৮-১৯ হিসাব বছরের জন্যও শেয়ারহোল্ডারদের ২৮ শতাংশ নগদ ও ২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল শাহজিবাজার পাওয়ার। আগের হিসাব বছরে ২৫ শতাংশ নগদের পাশাপাশি ৩ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা। 

কোম্পানিটির সার্ভিলেন্স রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ-১’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, ১৪ নভেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের অবস্থান ও রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিআরএবি)।

২০১৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১৮৬ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪০৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৮ কোটি ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৬২৯। এর মধ্যে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে ৫৯ দশমিক ২১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৬ দশমিক ৩০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইতে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ৬৫ টাকা ৫০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল একই।