ফোর্বসের তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বে বিলিয়নেয়ারের বর্তমান সংখ্যা ২ হাজার ৭৮১। এ সংখ্যা আগামী বছরগুলোয় আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান তালিকার ছোট একটি অংশ দখল করে আছে তরুণ প্রজন্ম। অনূর্ধ্ব ৩০ বছর বয়সী মোট ১৫ ব্যক্তি আছেন অতিধনীর কাতারে। তবে তাদের বেশির ভাগের সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি আরো জানায়, উত্তরাধিকার সূত্রে বিলিয়নেয়ারের সংখ্যা সামনে আরো বাড়বে। পরবর্তী দুই দশকে প্রায় এক হাজার পরিবার তাদের উত্তরাধিকারীদের হাতে ৫ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদ হস্তান্তর করবে।
বর্তমান বিলিয়নেয়ার তালিকায় রয়েছেন আয়ারল্যান্ডে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই ভাই ২৭ বছর বয়সী ফিরোজ মিস্ত্রি ও ২৫ বছর বয়সী জাহান মিস্ত্রি। তাদের প্রত্যেকের মালিকানায় টেট গ্রুপের মূল কোম্পানি টাটা সন্সে আনুমানিক ৪৯০ কোটি ডলার মূল্যের শেয়ার রয়েছে। টেট গ্রুপের অধীনে রয়েছে জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের মতো গাড়ির ব্র্যান্ড। মূলত বাবা সাইরাস মিস্ত্রির মৃত্যুর পর ২০২২ সালে কোম্পানিতে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ অংশীদারত্ব পেয়েছিলেন ফিরোজ ও জাহান। কাছাকাছি সময়ে মারা যান তাদের দাদা পালনজী মিস্ত্রি।
২০২২ সালে মারা যান বিলাসী সানগ্লাস প্রস্তুতকারক কোম্পানি লুক্সোটিকার প্রতিষ্ঠাতা লিওনার্দো দেল ভেচিও। লিওনার্দোর প্রয়াণে তার সাম্রাজ্যের মালিক হন তিন সন্তান লিওনার্দো মারিয়া (২৮), লুকা (২২) ও ক্লেমেন্টে দেল ভেচিও (১৯)। রাতারাতি অতিধনীতে পরিণত এ তরুণদের প্রত্যেকেরই লুক্সেমবার্গ-ভিত্তিক হোল্ডিং কোম্পানি ডেলফিনে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। তারা প্রত্যেকে ৪৭০ কোটি ডলার করে সম্পদের মালিক।
বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বিলিয়নেয়ার হিসেবে রেকর্ড করেছে লিভিয়া ভয়গট, বয়স ১৯ বছর। তার অধীনে রয়েছে ১১০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদ। লিভিয়ার হাতে রয়েছে ডব্লিউইজি ইন্ডাস্ট্রিজের ৩ দশমিক ১ শতাংশ মালিকানা। অতিধনীর তালিকায় আরো রয়েছেন লিভিয়ার বড় বোন ডোরা ভয়গট ডি অ্যাসিস (২৬)। এ দুই তরুণীর পিতামহ ওয়ার্নার রিকার্ডো ব্রাজিলের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কোম্পানি ডব্লিউইজি ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা।
বিলিয়নেয়ার তালিকায় সামনে আরো তরুণ অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ প্রসঙ্গে সুইস ব্যাংক ইউবিএসের বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘২০-৩০ বছরের মধ্যে বর্তমানের বিলিয়নেয়ারদের এক হাজার জনের বেশি তাদের উত্তরাধিকারীদের কাছে ৫ দশমিক ২ ট্রিলিয়নের বেশি সম্পদ হস্তান্তর করবেন। অতিধনীর বয়স অনুসারে এ হিসাব করা হয়েছে। কেননা বর্তমানে ১ হাজার ২৩ জন বিলিয়নেয়ারের বয়স ৭০ বছর বা তার বেশি।
দীর্ঘমেয়াদে তাকালে নব্বই দশক থেকে ব্যবসায়িক কার্যকলাপ বাড়ায় বৈশ্বিকভাবে সম্পদ বেড়েছে, যা বিলিয়নেয়ার পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করেছে।
তালিকায় কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। এর মধ্যে আছেন স্বপ্রতিষ্ঠিত বিলিয়নেয়ারদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠজন বেন ফ্রান্সিস, বয়স ৩১ বছর। ব্রিটিশ অ্যাথলেজার ব্র্যান্ড জিমশার্কের এ প্রতিষ্ঠাতার সম্পদ আনুমানিক ১৩০ কোটি ডলার।
অন্য এক হিসাবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০ বছরের মধ্যে উত্তরাধিকারী সূত্রে পরবর্তী প্রজন্মের হাতে যাবে ৭০ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ। রিয়েল-এস্টেট এজেন্ট নাইট ফ্র্যাংকের মতে, এ পরিমাণ সম্পদের কারণে ধনী প্রজন্মের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অংশ হয়ে উঠবে এ শতকের শুরুতে জন্ম নেয়া তরুণরা।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হচ্ছেন বিলাসবহুল পণ্য সংস্থা এলভিএমএইচের মালিক বেহনা আহনোঁ, তার বয়স ৭৫ বছর। সম্প্রতি তিনি সন্তানদের কাছে ব্যবসা হস্তান্তর করেছেন। আহনোঁর আনুমানিক সম্পদ ২৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি বেড়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন দুই বিখ্যাত শিল্পপতি ভাইদের মধ্যে বড় চার্লস কোচের বয়স ৮৮ বছর। অন্যদিকে সহপ্রতিষ্ঠাতা ফিল নাইটের বয়স ৮৬ বছর।










