এতে কোম্পানিটির প্রায় দেড় কোটি টাকার মালপত্র লুট হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানিটি।

তথ্যানুসারে, ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ২টার দিকে ৩০-৪০ জনের মুখোশধারী দল কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে। তারা দায়িত্বরত ছয়-সাতজনের হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং পরে কারখানার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি ১৪০০ কেভিএ সাব-স্টেশনসহ এর ভেতরের সমস্ত যন্ত্রাংশ, যা সম্পূর্ণ অকেজো করে ফেলা হয়েছে। এছাড়া ১০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাওয়ার মোটর, তিনটি জেনারেটরের পাওয়ার কেবল, ব্যাটারি ও বিভিন্ন কম্পোনেন্ট, আটটি কপার বার, এসটি ও এলটি ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার কেবল, মোটর, এসিবি ব্রেকার, কপার বার, ১২ ভোল্ট ব্যাটারি, দুটি কম্পিউটার, পার্টিশনসহ থাই গ্লাস ভাংচুর, আলমারি ও টেবিলের লকার ভাংচুর, একটি প্রাইভেটকার ভাংচুর, নৈশপ্রহরীদের চারটি মোবাইল ও নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

কোম্পানিটি জানায়, লুট হওয়া যন্ত্রপাতি ও নগদ অর্থ মিলিয়ে আনুমানিক দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘটনার পর কারখানায় কর্মরত অ্যাকাউন্টস ও অ্যাডমিন তারিফুল ইসলাম ১১ ফেব্রুয়ারি ধামরাই থানায় একটি এজাহার (এফআইআর) দায়ের করেছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর ও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একই কারখানায় পরপর দুবার ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সে সময়ও থানায় অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি এবং লুট হওয়া মালপত্র উদ্ধার হয়নি। ধারাবাহিক এসব ঘটনার ফলে কোম্পানিটির উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

২০২২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিডি থাই ফুডের অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ১৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৮ কোটি ১৫ লাখ। এর ৩৫ দশমিক ৬১ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২১ দশমিক ৮৭ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৪২ দশমিক ৫২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।