দেশের রফতানির বাজার যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে সরকার সচেতন আছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে মেমোরেন্ডাম দিয়েছে, এটা কিন্তু শুধু বাংলাদেশকে টার্গেট করে না, সকল দেশের জন্য। তারা চাইছে শ্রম পরিস্থিতি আরো উন্নত হোক। সংস্কার নিয়ে এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতিগুলো হয়েছে সেগুলো ইউএসটিআর ও সংশ্লিষ্টদের আমরা জানাব। আমরা অবশ্যই সচেতন আছি আমাদের রফতানি বাজার যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।’
শ্রমসংক্রান্ত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা নিয়ে গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বিশেষ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত। সভায় পররাষ্ট্র, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নে জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ এসব কথা বলেছেন।
সভা শেষে তপন কান্তি ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আজ সভাটা করলাম মূলত ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান লেবার রাইটসের প্রশ্নে। এটার বাস্তবায়ন অগ্রগতি দেখার জন্যই। আমাদের অগ্রগতি কতটুকু হয়েছে আগামীতে আরো কী করতে হবে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ যেহেতু স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হচ্ছে সেই উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পরে আমাদের কিছু প্রতিশ্রুতি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা অন্য দেশগুলো দেখতে চায়। সেইগুলো বাস্তবায়ন কীভাবে করা যায় সেটাই আমরা আলোচনা করেছি।’
এরই মধ্যে আমাদের অনেক ক্ষেত্রে আমরা উন্নতি করেছি উল্লেখ করে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘সম্প্রতি বাংলাদেশ শ্রম আইনে সংশোধনী আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি আইন ২০১০, সেটায়ও কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বক্তব্য ছিল, তাদের কিছু চাওয়া ছিল। আমরা সেগুলো পূরণ করার জন্যই সংস্কার বা আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এগুলো আমরা আলোচনা করেছি। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যে পথচলা সেখানে আরো কী কী করতে হবে সেই বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি। অংশীজন বিশেষ করে এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, ওনাদের বলেছি এই ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’
সিনিয়র সচিব বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক যে মূল্যায়ন রিপোর্ট সেটা তারা সবার সঙ্গে আলোচনা করেই করেছেন। বাংলাদেশ যে সংস্কারগুলো নিয়ে এসেছে সেগুলোর প্রশংসা করে বলছেন যে আংশিকভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। তারা চান তাদের চাওয়াগুলো আমরা যেন আরো বেশি বাস্তবায়ন করি। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। এটা নতুন না, আমরা বিগত ১০ বছরে সর্বোচ্চ শুল্ক সুবিধাদাতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের চাওয়াগুলো নিয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছি।’
তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মেমোরেন্ডাম যেটা দিয়েছে, সে বিষয়ে আমাদের মালিক পক্ষ, রফতানিকারক তারা সচেতন আছেন। আমরা কন্টিনিউয়াসলি কাজ করে যাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০ সেপ্টেম্বর আমরা টিকফা ফোরামে বসেছিলাম। সেখানেও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তারা আমাদের অগ্রগতিগুলো সম্পর্কে জানে। কিন্তু তারা চায় আরো অগ্রগতি হোক। কিন্তু আমাদের দেশের অবস্থা কখনো ইউরোপীয়দের সঙ্গে তুলনীয় না। আমাদেরকে ক্রমাগত উন্নতি করতে হবে। অর্থনীতি বিশ্বব্যাপী এখন চাপের মুখে আছে। আমাদের রফতানি কিছুটা কমে গেছে গত দুই মাসে। সব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই অগ্রগতি হচ্ছে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। আমরা সবসময়ই সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্মারক নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘এ বিষয় আমরা কাজ করছি। আগেই বললাম. এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। আগামী মার্চেও মিটিং হওয়ার কথা রয়েছে। মেমোরেন্ডাম দেয়া হয়েছে বলে এখন নতুন করে মিটিং করছি সেটা কিন্তু না। আমরা অবশ্যই সচেতন আছি আমাদের রফতানি বাজার যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সেজন্য যা যা করণীয় সেটা করব।’
বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে—এমনটা মনে করছেন কিনা এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেয়ার মতো পরিস্থিতি নাই। যুক্তরাষ্ট্র মেমোরেন্ডামে যেটা চাইছে শ্রম পরিস্থিতি আরো উন্নত হোক। আমরা সেটা কগনিজেন্সিতে নিয়েছি। থ্রি প্লাস ফাইভ সচিব এবং রাষ্ট্রদূতদের যে মিটিং হওয়ার কথা তা এই মাসেই, তাই আজ বসেছি। অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের মেমোরেন্ডামের বিষয় আলোচনা হয়েছে। অংশীজনদের বলেছি অনেক জায়গায় আমরা সংস্কার নিয়ে এসেছি তাদের চাওয়ামতো, আরো কী নেয়া যায় তাও ভাবছি। এখন পর্যন্ত যে অগ্রগতিগুলো আমাদের হয়েছে সেগুলো তাদের আমরা জানাব।’









