অস্ট্রেলিয়ায় ভোগ ব্যয় ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ব্ল্যাক ফ্রাইডের কেনাকাটা ও অনলাইনে খরচ বাড়িয়েছে ক্রেতারা। এ তথ্য ক্রমবর্ধমান সুদের হার ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেও দেশটিতে ভোগ ব্যয় স্থিতিস্থাপক থাকার প্রমাণ তুলে ধরছে। খবর রয়টার্স।
অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের (এবিএস) তথ্য অনুসারে, নভেম্বরে খুচরা বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। অর্থের হিসাবে যা রেকর্ড ৩ হাজার ৫৯০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার (২ হাজার ৪৭০ কোটি ডলার)। এ হার অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। এর আগে অক্টোবরে দেশটির খুচরা বিক্রি মাসভিত্তিক দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল। এবিএসের এ পরিসংখ্যান শক্তিশালী চাহিদার বিষয়টি তুলে ধরে।
এদিকে নভেম্বরে দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি পুনরায় ত্বরান্বিত হয়েছে। অক্টোবরে বছরওয়ারি মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৯ শতাংশে ধীর হওয়ার পর নভেম্বরে তা আবারো ৭ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
এবিএসের প্রাইস স্ট্যাটিস্টিকস বিভাগের প্রধান মিশেল মারকুয়ার্ড বলেন, ‘নভেম্বরে জোরালো ভোক্তা চাহিদা অব্যাহত ছিল। এ পরিস্থিতি জেট ফুয়েলের দাম আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। নভেম্বরে বাড়ির দামেও ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া তাজা খাবার ও জ্বালানির দাম বাদ দিয়ে হিসাব করা কোর মূল্যস্ফীতি নভেম্বরে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বছরওয়ারি কোর মূল্যস্ফীতির এ হার ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ। জোরালো ভোক্তা ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়াকে (আরবিএ) চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। কারণ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি ধীর করতে সুদের হার বাড়িয়ে যাচ্ছে।’
আরবিএ গত মে মাস থেকে সুদের হার ৩০০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত করেছে। এ হার এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির সভায় ব্যাংকটি সুদের হার আরো ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ হার ৩ দশমিক ৮৫ থেকে ৪ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অর্থনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ মার্সেল থিলিয়ান্ট বলেন, ‘বাজারের স্থিতিস্থাপকতার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরবিএকে সুদের হার আরো বাড়াতে প্ররোচিত করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপের কারণে নতুন বাড়ির বাজারে একটু ধীরগতি দেখা দিয়েছে। যদিও এটি গত কয়েক বছর মূল্যস্ফীতির একটি প্রধান চালক ছিল।’










