জলবায়ু নিয়ে সচেতনতার জেরে বিশ্বজুড়ে কমিয়ে আনা হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার। একে প্রতিস্থাপন করে বেড়ে চলছে বৈদ্যুতিক তারের চাহিদা। বাড়তি এ চাহিদা তামা উৎপাদনকারী খনির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে। কিন্তু ঠিক এ সময় তামা উত্তোলনে হিমশিম খাচ্ছে চিলি। চাহিদা বাড়লেও আশঙ্কা রয়েছে উৎপাদনসূচকে নিম্নমুখিতার। খবর মাইনিং ডট কম।
বিশ্বের মোট তামা চাহিদার এক-চতুর্থাংশ সরবরাহ করে চিলি। অথচ চলতি মাসে দেশটির উৎপাদন ছিল ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান কোডেলকো জানায়, ২০২৩ সালের বাকি সময় কেবল নেতিবাচক দিকেই চলতে থাকবে। নতুন অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করতে খননের প্রয়োজন। পানির বাধা ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে খননকার্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তার মধ্যে আছে পরিচালনাগত সীমাবদ্ধতা। খনিজ উৎপাদনের গুণমান রক্ষা করা নিয়েও রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
প্রধান নির্বাহী অফিসার আন্দ্রে সুগারেটের দাবি, উৎপাদন, খরচ ও উদ্বৃত্ত বিবেচনায় এটা একটা কঠিন বছরে পরিণত হয়েছে। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য অন্য কোনো উপায় বের করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে চিলির ঘোষণার পরই কপারের ভবিষ্যৎ সরবরাহ বাজার নিম্নমুখী রূপ নিয়েছে। বিদ্যমান সমস্যা সমাধান খুব একটা সহজ না হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ২০২২ সালের তুলনায় উৎপাদন ৭ শতাংশ কমবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কোডেলকো। ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন থেকে ১৪ লাখ ২০ হাজর টন উৎপাদন দেখতে পারে ২০২৩ সালে। সুগারেটের দেয়া তথ্যমতে, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে দেশব্যাপী উৎপাদন কমেছে ১২ শতাংশ। ২০১৭ সালের পর এটিই উৎপাদন সূচকে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান।
মহামারীর পর নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার সুবাদে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে চীনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। বিশেষ করে উৎপাদন ও নির্মাণ কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন পরে পেয়েছে নতুন গতি। চীনে তামার চাহিদা বর্তমানে সর্বোচ্চ অবস্থায় রয়েছে। ঠিক এমন সময়ে তামার আন্তর্জাতিক বাজারে চিলির উৎপাদন হ্রাস আশঙ্কা তৈরি করছে। সংকুচিত করেছে সরবরাহ। এদিকে ১৮ বছরের মধ্যে তামা স্টকপাইল্স ও লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জ সর্বনিম্ন অবস্থান পার করছে। যদিও এর পরও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সুগারেট। আন্তর্জাতিক বাজারকে তিনি এখনো ভারসাম্যপূর্ণ বলেই মনে করেন। তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতি পাউন্ড ৩ দশমিক ৫ ডলার থেকে ৪ দশমিক ৪ ডলার থাকবে তামার মূল্য। বর্তমানে দাম ৪ ডলারে রয়েছে।
চিলির রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি গত বছর যন্ত্রপাতিজনিত সমস্যা ও ড্যাম জমে যাওয়ার মুখোমুখি হয়। ফলে উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টনে দাঁড়ায়। কোডেলকো সম্প্রতি বৃহৎ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দশক শেষ হওয়ার আগেই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে চায় দেশটি। প্রতিষ্ঠানটির লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একদিকে মহামারীর আঘাতে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা, অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আন্তর্জাতিক বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অতটা সহজ হবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।









