দিনাজপুরের হিলিতে সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না খোলা চিনি। অন্যদিকে বাজার থেকে উধাও হয়ে গেছে মোড়কজাত চিনি। ঈদের কয়েকদিন আগেই বাজারে এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। বাজার নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সরকার খোলা চিনির দর ১০৪ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও হিলির বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে। সিংহভাগ দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না মোড়কজাত চিনি। কোনো দোকানে মিললেও ১০৯ টাকার বদলে ১২০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে।
সম্প্রতি খোলা চিনির দাম ১০৭ টাকা কেজি থেকে ৩ টাকা কমিয়ে ১০৪ টাকা ও মোড়কজাত চিনি ১১২ টাকা থেকে ৩ টাকা কমিয়ে ১০৯ টাকা দর নির্ধারণ করে দেয় সরকার। কিন্তু হিলির বাজারগুলোয় এ দামের কোনো অস্তিত্ব নেই। মূল্যতালিকা টাঙানোর নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ দোকান মালিক সে নির্দেশনা মানছেন না। এদিকে পাইকারি বিক্রেতারা চিনি কেনার পর কোনো রশিদ দিচ্ছে না বলে অভিযোগ খুচরা বিক্রেতাদের।
হিলি বাজারে চিনি কিনতে আসা মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘মাত্র দুদিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। এ সময় চিনির বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েছে। দুদিন আগে ১১৫ টাকা কেজি দরে চিনি কিনেছি। বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।’
ফয়সাল হাসান নামে আরেক ক্রেতা বলেন, ‘সরকার চিনির মূল্যনির্ধারণ করে দিলেও এর কোনো প্রভাব বাজারে পড়েনি। উল্টো প্রতিদিন দাম কেজিতে ১-২ টাকা করে বাড়ছে। যে চিনি গতকাল (মঙ্গলবার) ১১৮ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে তা আজ (বুধবার) ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
হিলি বাজারের মুদি দোকানি লুৎফর রহমান বলেন, ‘সরকার চিনির দাম কমিয়েছে। সরকারি দামে চিনি কিনতে পারছি না। সরকার খোলা চিনির দাম ১০৪ টাকা বেঁধে দিলেও আমরা মহাজনদের কাছ থেকে কিনছি ১১৭ টাকা কেজি দরে। আর মোড়কজাত চিনি তো পাওয়াই যাচ্ছে না।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, ‘চিনি যে নেই তা কিন্তু নয়, এগুলো সব ব্যবসায়ীদের কারসাজি। তবে চিনির মূল্যবৃদ্ধি রুখতে ও দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমরা নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং করছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিদিন মাঠ পর্যায়ের রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে।’









