আগামী বছর নাটকীয় পরিবর্তনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে এশিয়ার জ্বালানি তেলের বাজার। এরই মধ্যে অঞ্চলটির আমদানি গন্তব্য নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে। আগামী বছরের শুরুর দিকে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে রফতানি প্রবাহে। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস।
এশিয়া বর্তমানে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়াচ্ছে। এক্ষেত্রে ব্যাপক মূল্যছাড় ও পরিবহন সুবিধা পাচ্ছে এ অঞ্চলের দেশগুলো। অন্যদিকে রাশিয়া ইউরোপের বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকান দেশগুলো থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করছে অঞ্চলটি।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটসকে বিশ্লেষক ও খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, এশিয়ার বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। চীনের কভিড-১৯ প্রতিরোধসংক্রান্ত নীতিমালায় আনা পরিবর্তন এক্ষেত্রে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা রাখছে।
আগামী দিনগুলোয় বাজারে ইরান থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন এশিয়ার ক্রেতারা। তবে কেউ কেউ এ সম্ভাবনাকে অনেকটাই ক্ষীণ বলে মনে করছেন। ২০২৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেল নিয়ে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের জ্বালানি তেল বাজারে ঢুকলে সরবরাহ পরিস্থিতিতে স্বস্তি ফিরেবে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের বিশ্লেষক কাং ইউ বলেন, আগামী বছর এশিয়াসহ পুরো বিশ্ব থেকেই ইউরোপে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়বে। এ সময় এশিয়ার বাজারে দেখা দিতে পারে নাটকীয় পরিবর্তন। বিশেষ করে রাশিয়ার বড় রফতানি গন্তব্য হয়ে উঠবে অঞ্চলটি। এ সময় চীনে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রবৃদ্ধি আরো গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ালে দেশটি জ্বালানি তেলজাত পণ্য রফতানিও বাড়াবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির পর থেকে দেশটি ইউরোপ ও অন্যান্য ক্রেতা দেশে রফতানি সম্প্রসারণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাশিয়া থেকে সমুদ্রপথে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ৫ ডিসেম্বর এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এ পরিস্থিতিতে সমুদ্রপথে রফতানির জন্য নতুন ক্রেতা খুঁজছে রাশিয়া। যে পরিমাণ তেল ইউরোপের দেশগুলোয় বিক্রি করার কথা ছিল, সেসবের অর্ধেকই এখন এশিয়ার দেশগুলোয় সরবরাহ করা হতে পারে। ইউরোপিয়ান নিষেধাজ্ঞার আগে অঞ্চলটি রাশিয়া থেকে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি জ্বালানি তেল ক্রয় করত।
বাণিজ্যিক প্রবাহে পরিবর্তনের ছাপ এরই মধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। অক্টোবরে ভারতে রুশ জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় আরোহণ করে। দেশটি মধ্যপ্রাচ্য থেকেই সাধারণত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল আমদানি করে। কিন্তু অক্টোবরে রাশিয়া থেকে এর চেয়েও বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। আগামী বছরও ভারত রাশিয়া থেকে আমদানি অব্যাহত রাখবে। এ সময় আমদানির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। ভারতের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রুশ জ্বালানি তেল সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। কারণ দেশটি থেকে তুলনামূলক কম দামেই আমদানি করা সম্ভব হচ্ছে। অক্টোবরে ভারতের জ্বালানি তেল আমদানিতে রাশিয়ার হিস্যা দাঁড়িয়েছে ২১ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে যা ছিল ১৫ শতাংশ।
এদিকে ব্যাপক মূল্যছাড়ে রুশ জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ হাতছাড়া করছে না বিশ্বের শীর্ষ আমদানিকারক চীনও। ২০২১ সালে আমদানিতে রাশিয়ার হিস্যা ছিল ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি-অক্টোবর পর্যন্ত তা বেড়ে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
সম্প্রতি চীন করোনাসংক্রান্ত লকডাউন ও অন্যান্য বিধিনিষেধের কারণে জ্বালানি তেল আমদানি কমেছে। বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, আগামী বছর দেশটির অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এ সময় আমদানি চাহিদা ব্যাপক বাড়বে।
দূরপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভোক্তা, জ্বালানি বিতরণ প্রতিষ্ঠান, পরিশোধন প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর প্রত্যাশা, আগামী দিনগুলোয় ইরান থেকে জ্বালানি তেলের প্রবাহ বাড়তে পারে।










