কভিডের স্থবিরতা কাটিয়ে আকাশপথে ভ্রমণের শক্তিশালী পুনরুদ্ধার অব্যাহত রয়েছে। জুলাইয়ে যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইএটিএ)।
গত জুলাইয়ে এয়ার ট্রাফিক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। যদিও এটি এখনো প্রাক-কভিড স্তরের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। মহামারীপূর্ব সময়ের তুলনায় বর্তমান এয়ার ট্রাফিক ৭৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
জুলাইয়ে অভ্যন্তরীণ চলাচল বেড়েছে বছরওয়ারি ৪ দশমিক ১ শতাংশ। তবে ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় এটি ৮৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। অভ্যন্তরীণ এয়ার ট্রাফিক বাড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে চীন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ট্রাফিক বছরওয়ারি হিসাবে ১৫০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। তবে এটি মহামারীপূর্ব পর্যায়ের ৬৭ দশমিক ৯ শতাংশে রয়ে গিয়েছে। এয়ার ট্রাফিক পরিমাপ করা হয় রেভিনিউ প্যাসেঞ্জার কিলোমিটার বা আরপিকে এককে। এটি কিলোমিটারে যাত্রীপ্রতি এয়ারলাইনসগুলোর আয় নির্দেশ করে।
সূচক প্রমাণ করছে, মানুষ ভ্রমণের ক্ষেত্রে আকাশপথ ব্যবহারে আগ্রহ দেখানো শুরু করছে। মহামারীর ক্ষত দ্রুত কাটিয়ে উঠছে উড়োজাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠানগুলো। চলতি বছরের জুলাইয়ে এ অবস্থা আরো বেশি শক্তিশালী।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গত বছর জুলাইয়ের তুলনায় এ বছর আন্তর্জাতিক ট্রাফিক বেড়েছে ৫২৮ দশমিক ৮ শতাংশ। বছরওয়ারি বাড়ার এ হার অঞ্চলটির যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ। এ অঞ্চলে এয়ারলাইনসগুলোর সক্ষমতা বেড়েছে ১৫৯ দশমিক ৯ শতাংশ এবং লোড ফ্যাক্টর (বিদ্যমান সিটের কত শতাংশ যাত্রী দিয়ে পূর্ণ হয়েছে) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ দশমিক ২ শতাংশে। লোড ফ্যাক্টর বেশি হওয়া মানে অধিকাংশ সিটই বিক্রি হয়ে যাওয়া।
ইউরোপীয় অঞ্চলে আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রাফিক ১১৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। সক্ষমতা বেড়েছে আগের তুলনায় ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ। পাশাপাশি লোড ফ্যাক্টর ৮৬ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ হারে অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে তুলনা করলে ইউরোপ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ২০২১ সালের জুলাইয়ের তুলনায় চলাচল বেড়েছে ১৯৩ দশমিক ১ শতাংশ। সক্ষমতা বেড়েছে ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ। লোড ফ্যাক্টর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৬ শতাংশে।
এ সময়ে উত্তর আমেরিকায় এয়ার ট্রাফিক ১২৯ দশমিক ২ শতাংশ ও সক্ষমতা বেড়েছে ৭৯ দশমিক ৯ শতাংশ। লোড ফ্যাক্টর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ৩ শতাংশে। লাতিন আমেরিকায় এয়ার ট্রাফিক গত বছরের তুলনায় ১১৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। সক্ষমতা বেড়েছে ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ। লোড ফ্যাক্টর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ২ শতাংশে। অন্যদিকে আফ্রিকায় এয়ার ট্রাফিক গত বছরের তুলনায় ৮৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।









