আফ্রিকার কিছু উন্নয়নশীল দেশে চীনা ঋণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘‌‌ঋণের শর্তাবলি আরো স্বচ্ছ হওয়া দরকার।’

বর্তমানে ঘানা ও জাম্বিয়াসহ কয়েকটি দেশ বেইজিংয়ের ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী ঋণ বিতরণের কথা জানিয়েছে বেইজিং। সাধারণত অন্য দেশ বা বহুপক্ষীয় সংস্থা থেকে ধার নেয়া অর্থ অবকাঠামো, শিক্ষা ও কৃষির মতো খাতে বিনিয়োগ করে অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে চায় উন্নয়নশীল দেশগুলো।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য প্রধান অর্থনীতিতে সুদের হারের তীব্র বৃদ্ধি ঋণ পরিশোধকে আরো ব্যয়বহুল করে তুলছে। কারণ ঋণ পরিশোধে প্রচুর পরিমাণ ডলার বা ইউরোর মতো বিদেশী মুদ্রা ব্যয় হয়। আবার আন্তর্জাতিক মুদ্রার সাপেক্ষে বেশির ভাগ স্থানীয় মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধে অতিরিক্ত অর্থ খুঁজতে হচ্ছে।

ম্যালপাসের মতে, এটি একটি দুই গুণ ধাক্কা। যার অর্থ হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হতে চলেছে। এমন এক পরিস্থিতিতে আফ্রিকায় চীনের সঙ্গে নতুন করে প্রতিযোগিতায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র। চলতি সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস তিনটি দেশ সফর করেন। তিনি তানজানিয়া ও ঘানাকে আর্থিক সহায়তার বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেখানকার খনি অবকাঠামোতেও দেখা গেছে তাকে।

এ অঞ্চলে বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে প্রতিযোগিতাকে ‘উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ইতিবাচক হতে পারে’ বলে মনে করেন ডেভিড ম্যালপাস। কারণ তা আফ্রিকার দেশগুলোর সামনে বিকল্প নিয়ে এসেছে।

এ অংশগ্রহণকে দৃঢ়ভাবে উৎসাহিত করলেও দেশগুলোর মধ্যে চুক্তিতে স্বচ্ছতা আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। চুক্তি করে যদি বলা হয় কাউকে দেখানো যাবে না, একে সমস্যা হিসেবে দেখেন। পাশাপাশি জামানত বিষয়ে আফ্রিকার দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন ম্যালপাস। এর কারণে প্রজন্মের পর প্রজন্ম অন্য কোনো একটি দেশের প্রতি আবদ্ধ হয়ে থাকে, যা চীনের সঙ্গে ঘটছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় উন্নয়নশীল অর্থনীতির ঋণের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে বেইজিং। কিয়েল ইনস্টিটিউটের নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৬-২২ সালে ২২টি দেশকে বেইলআউটে সাড়ে ১৮ হাজার কোটি ডলার ধার দিয়েছে চীন।

এদিকে চীন বলছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিপ্রায়কে সম্মান জানিয়ে তারা ঋণ দিয়েছে। কখনই ধার করতে বা অর্থ পরিশোধে বাধ্য করেনি। আর ঋণ চুক্তিতে কোনো রাজনৈতিক শর্ত থাকে না দেশটির। বিশ্বব্যাংক প্রধান বলছেন, সমস্যা যে শুধু চীনা অর্থায়নেই এমন নয়। অন্যান্য ঋণদাতাদের সঙ্গেও সমস্যা রয়েছে। তবে সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

ম্যালপাস বলেন, ‘‌আপনি যদি পশ্চিমা ঋণের ইতিহাসের দেখেন, কখনো কখনো দেশগুলোর জনগণের কল্যাণের জন্য পুরোপুরি ঋণ দেয়া হয়নি। এমনকি বিশ্বব্যাংকের ঋণও সবসময় কোনো দেশের সর্বোচ্চ কল্যাণে আসেনি। তাই আমাদের সবার প্রয়াস থাকা উচিত ঋণের মান উন্নত করা।