ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ২০৪৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল শিল্পে ১৪ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রতি বছরে গড়ে বিনিয়োগ দরকার ৬১ হাজার কোটি ডলার। জ্বালানি তেলের জন্য খনিজ অনুসন্ধান, উত্তোলন, পরিশোধন ও বাজারজাতে এ অর্থ ব্যয় হবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সরবরাহ চেইনের সংকটে বর্তমানে চাহিদা কমলেও ২০৪৫ সাল নাগাদ জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা থাকবে উল্লেখযোগ্য মাত্রায়। এমনটাই উঠে এসেছে ওপেকের অধীনে প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড অয়েল আউটলুকে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
ওয়ার্ল্ড অয়েল আউটলুক অনুসারে, প্রয়োজনীয় অর্থের মধ্যে খনিজ অনুসন্ধান, খননকার্য পরিচালনা ও উত্তোলনে প্রয়োজন ১১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার। পরিশোধন ও প্রক্রিয়াজাতের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, পরিবহন ও মজুদের পেছনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এর আগে গত বছরে ওপেকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, জ্বালানি তেল খাতে দীর্ঘমেয়াদে ১২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা ২০৪৫ সালের মধ্যে ২৩ শতাংশ বাড়বে। ওপেক জ্বালানি তেলর চাহিদার পূর্বাভাসে জানিয়েছে ২০৪৫ সালের মধ্যে চাহিদা দৈনিক ৬০ লাখ ব্যারেল বেড়ে দৈনিক ১১ কোটি ৬০ ব্যারেলে দাঁড়াবে। তবে চাহিদা আরো বাড়তে পারে। ওপেকের মহাসচিব হাইসাম আল ঘাইস বলেন, ‘সাম্প্রতিক দিনগুলোয় হওয়া অগ্রগতি তার সক্ষমতার দিকে আরো একবার মনোযোগ দিতে হবে। বাস্তবতা ও যথাযোগ্য সম্ভাবনাকেই গ্রহণ করতে হবে। জ্বালানি তেলে নতুন করে বিনিয়োগ বন্ধ করার আহ্বান এক ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে বিশৃঙ্খলা নিয়ে আসবে। ইতিহাসে তার বহু নজির রয়েছে। সেখানে নীতিনির্ধারকদের ভুলের কারণে পুরো খাতে জটিলতা তৈরি হয়েছে।’
ওপেক জানিয়েছে, জ্বালানি চাহিদা সবচেয়ে বেশি বাড়বে অর্গানাইজেন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) ব্লকের বাইরের দেশগুলোয়। দেশগুলোয় জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে দৈনিক ৬ কোটি ৯০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেলের সমান। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ। ২০৪৫ সালে ওইসিডি ব্লকের বাইরের দেশগুলোর মোট চাহিদার এক-পঞ্চমাংশই নেবে ভারত।
বায়ুশক্তি ও সৌরশক্তির চাহিদা বাড়বে। নীতিগত সহযোগিতায় খাতটিতে দৈনিক ৩ কোটি ৪৩ লাখ জ্বালানি তেলের সমান জ্বালানি চাহিদা বাড়বে। ওপেক পূর্বাভাস দিয়েছে, জ্বালানি খাতে জীবাশ্ম জ্বালানির অবদান ২০৪৫ সালের মধ্যে ৬৯ শতাংশে নেমে আসবে। ২০২২ সালে জীবাশ্ম জ্বালানির চাহিদা ছিল ৮০ শতাংশ। জীবাশ্ম জ্বালানির এ অবনমনে ভূমিকা রাখবে বিদ্যুৎ ও পরিবেশ অনুকূল জ্বালানি।
২০৪৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেলে ওপেকের অবদান ৪০ শতাংশে উন্নীত হবে। ২০২২ সালে এর হার ছিল ৩৪ শতাংশ। ওপেকের বাইরের দেশগুলো থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বেড়ে ২০২৮ সালে দৈনিক ৭ কোটি ২৭ লাখে দাঁড়াবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে সংকুচিত হবে অবদান। ২০৪৫ সালে গিয়ে ৬ কোটি ৯৯ লাখে ঠেকবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি দশকের শেষ দিকেই ওপেকের বাইরের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল সরবরাহকারী দেশ হবে যুক্তরাষ্ট্র। ২০৩০ সালের পর থেকেই ওপেকবহির্ভূত দেশগুলোর জ্বালানি তেলে অবদান সংকুচিত হবে।
গত জুনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে মন্থর হয়ে আসার কথা বলেছিল। উচ্চমূল্য ও সরবরাহ চেইন সংকটে পরিবেশ অনুকূল জ্বালানির প্রতি ঝোঁক বাড়ছিল বিভিন্ন দেশে। তবে বর্তমান বাজারনীতি অনুযায়ী, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা ২০২৮ সালে ৬ শতাংশ বাড়বে। বিশেষ করে উড়োজাহাজ চলাচল খাতে এখনো চাহিদা শক্তিশালী অবস্থানে।










