প্রাকৃতিক রাবারের বৈশ্বিক উৎপাদন ও রফতানিতে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড।
বৈশ্বিক রাবারের ৪০ শতাংশ এককভাবে সরবরাহ করে দেশটি।
কিন্তু সম্প্রতি দুঃসময় যেন পিছু ছাড়ছে না দেশটির।
একদিকে ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অন্যদিকে মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের ঘেরাটোপে পড়ে রফতানি হ্রাস পাচ্ছে।
এ অবস্থায় কৃষকদের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছে থাই সরকার।
থাইল্যান্ডের রাবার অথরিটির সম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রধান রাবার উৎপাদন এলাকায় ছত্রাকজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
ফলে রাবার উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।
পেস্টালোটিয়োপসিস নামে এক ধরনের ছত্রাক প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থাইল্যান্ডেও দেখা দিয়েছে।
ফলে প্রাকৃতিক রাবারের উৎপাদন ও রফতানি নিয়ে এখন সংশয় দেখা দিয়েছে।
কারণ দেশ তিনটি একত্রে বৈশ্বিক রাবারের ৭০ শতাংশই সরবরাহ করে।
রাবার অথরিটি বলছে, থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান উৎপাদন এলাকার তিনটি জেলায় এ ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
এসব এলাকার রাবার গাছে ছত্রাক ছড়িয়ে পড়ায় পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে।
থাইল্যান্ডের রাবার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ক্রিসদা সাংসিং বলেন, এসব এলাকায় ছত্রাকের আক্রমণের ফলে উৎপাদন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
এছাড়া ১৬ হাজার হেক্টর আবাদ এলাকায় ছত্রাকটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যদিও ছত্রাকটি প্রতিরোধ এবং ছড়িয়ে পড়া রোধে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
ক্রিসদারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বয়স্ক গাছগুলোয় এ ছত্রাকের আক্রমণ বেশি হয়েছে।
এসব গাছের ৯০ শতাংশ পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
যে কারণে এসব গাছ থেকে রাবারের নির্যাস নির্গমনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকার রাবার চাষীরা এরই মধ্যে এ অবস্থা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ন্যাচারাল রাবার কাউন্সিল অব থাইল্যান্ডের সভাপতি উথায় সনলাকসুব।
তিনি বলেন, রাবারের উৎপাদন ও দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা খুবই উদ্বিগ্ন।
এটি
(ছত্রাক) খুব দ্রুত ছড়াচ্ছে।
বিস্তৃত এলাকাজুড়ে আক্রান্ত হওয়ায় কৃষকদের এখন আয় কমে যাচ্ছে।
তবে এ ছত্রাকে কেবল থাইল্যান্ডের রাবার খাতই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
এর আগে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ৩ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে এ ছত্রাকে আক্রান্ত হয়।
ফলে রাবার উৎপাদন ১৫ শতাংশ কমে যাবে বলে জানিয়েছে দেশটি।
এছাড়া মালয়েশিয়াও ছত্রাকের আক্রমণে উল্লেখযোগ্য এলাকায় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।









