চাহিদার তুলনায় এশিয়ার বাজারে চালের সরবরাহ বেড়েছে। এতে খাদ্যপণ্যটির রফতানি মূল্য এ সপ্তাহে কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে ভারত ও ভিয়েতনামের চালের রফতানি মূল্য পড়তির দিকে রয়েছে। যদিও সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন ক্রয়াদেশের পরিমাণও বাড়ছে। চীন, বাংলাদেশ, ইরান ও শ্রীলংকা থেকে আসন্ন মাসগুলোয় নতুন ক্রয়াদেশ আসার সম্ভাবনা দেখছেন দেশ দুটির রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। খবর রয়টার্স।

চালের শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ভারত। চলতি সপ্তাহে দেশটি থেকে ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল টনপ্রতি ৩৬১-৩৬৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে ছিল ৩৬৪-৩৬৮ ডলারে। সরবরাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি এ সময়ে ডলারের বিপরীতে রুপির দরপতনও হয়েছে। যে কারণে রফতানি মূল্য কমেছে।

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় অন্ধ্র প্রদেশের কাকিনাডাভিত্তিক এক রফতানিকারক জানান, বর্তমানে এশিয়ার বাজারে চালের ভালো চাহিদা। কয়েক সপ্তাহজুড়ে সরবরাহও বাড়ছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও রুপির দরপতনে দাম কমে যাচ্ছে।

অন্যদিকে ভিয়েতনামের চালের রফতানি মূল্যও আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে। দেশটিতে এখন খাদ্যপণ্যটির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। মূলত মেকং ডেল্টা এলাকার আবাদের প্রায় ৯০ শতাংশ ধানই সংগ্রহ করে ফেলেছে সেখানকার কৃষকরা। যে কারণে দেশটিতে এখন চালের সরবরাহ বাড়ছে। যার প্রভাব পড়েছে দামের ওপর। বৃহস্পতিবার প্রতি টন ৫ শতাংশ ভাঙা চালের টনপ্রতি বিক্রি মূল্য ধরা হয় ৪১৫ ডলার। যেখানে আগের সপ্তাহে টনপ্রতি দাম ছিল ৪২০-৪২৫ ডলারে।

এদিকে চালের বাজার কিছুটা নিম্নমুখী হলেও আসন্ন মাসগুলোয় নতুন ক্রয়াদেশের কারণে দাম আবার বাড়তে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ভিয়েতনামের ফুড অ্যাসোসিয়েশনের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, আগামীতে চালের রফতানি নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে। বিশেষ করে চীন, বাংলাদেশ, ইরান ও শ্রীলংকার বাজারে এ মুহূর্তে খাদ্যপণ্যটির বেশ চাহিদা। যে কারণে এসব বাজারে ভারত ও ভিয়েতনামের রফতানি আরো বাড়তে পারে।

শিপিং ডাটার প্রাথমিক তথ্য বলছে, শুধু এ মাসেই হো চি মিন সিটি বন্দর থেকে ২ লাখ ৯১ হাজার ৬৯০ টনের মতো চাল বিভিন্ন দেশে রফতানি হবে। যার অধিকাংশের গন্তব্য ফিলিপাইন ও কিউবা।

এদিকে চালের আরেক অন্যতম শীর্ষ রফতানিকারক দেশ থাইল্যান্ডে দাম সামান্য বেড়েছে। দুই সপ্তাহ আগে যেখানে ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৪০৮-৪১২ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল, এ সপ্তাহে সেটি ৪১০-৪১৪ ডলারে বিক্রি করা হচ্ছে। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, এ বছরের প্রথম দুই মাসেই দেশটি ১১ লাখ টনের মতো চল রফতানি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২৯ শতাংশ বেশি।