সৌদি আরবের শিল্প খাতের সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধিকে ‘নজিরবিহীন’ বলছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশটির শ্রমবাজারে। এতে নারীকর্মীদের হার বেড়ে ৩৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সেই সঙ্গে বেসরকারি খাতের শ্রমবাজারের শ্রমশক্তি ২৪ লাখে পৌঁছেছে। খবর আরব নিউজ।
সম্প্রতি কাসিম ইয়ুথ এমপাওয়ারমেন্ট ফোরামের তৃতীয় সংস্করণে বক্তৃতায় সৌদি শ্রম বিষয়ক মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন উপমন্ত্রী আহমেদ আল-জাহরানি এসব তথ্য দেন। তিনি বলেন, ‘গত ছয় বছরে সৌদিতে যে প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে তা বিশ্বব্যাপী যেকোনো শ্রমবাজারে নজিরবিহীন।’
আল-কাসিম প্রদেশের অনুষ্ঠিত ফোরামটি ফুরসাতি নামেও পরিচিত। বুরাইদাহের কিং খালিদ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সম্প্রতি এ সম্মেলন শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন আল-কাসিম প্রদেশের গভর্নর প্রিন্স ফয়সাল বিন মিশাল বিন সৌদ ও অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গভর্নর প্রিন্স ফয়সাল জানান, কাসিমের কর্মী বাহিনীতে ৩৮ হাজার পুরুষ কর্মচারী এবং ২৬ হাজার নারী কর্মী রয়েছে, যা বেসরকারি খাতে বিভিন্ন ভূমিকায় লৈঙ্গিক সমতার উপস্থিতি প্রমাণ করে।
তিনি আরো বলেন, ‘নাগরিকদের জন্য চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়তার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শক্তিশালী জি২০ দেশগুলোর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে সৌদি আরব। বৈশ্বিক বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও জিডিপি ৭ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে।’
এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রসঙ্গে গভর্নর প্রিন্স ফয়সাল বলেন, ‘বিনিয়োগের আরো সম্প্রসারণ, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানো সবই এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য কাজের সম্ভাবনা তৈরিতে ভূমিকা পালন করেছে।’
বেসরকারি খাত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে অবদান রাখে বলে উল্লেখ করেন প্রিন্স ফয়সাল। তিনি জানান, অঞ্চলটি ভিশন-২০৩০-এর উদ্দেশ্যগুলোর সঙ্গে মিল রেখে নারীর ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন উদ্যোগের সূচনা প্রত্যক্ষ করছে।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপমন্ত্রী খলিল বিন সালামাহ। তার মতে, যেকোনো শিল্পকে সফল করার জন্য দক্ষ কর্মী প্রয়োজন। সে দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে সৌদি আরব।
খলিল বিন সালামাহ আরো বলেন, ‘শিল্প খাতে বর্তমানে ১১ হাজার কারখানা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৬ হাজার কারখানা তৈরি করা।’










