মন্থর চাহিদার কারণে নভেম্বরে বিশ্বব্যাপী শিল্পোৎপাদন কার্যক্রম দুর্বল হয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে ইউরোজোনের কারখানার কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে। আর চীনের অর্থনৈতিক শক্তি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। খবর রয়টার্স।
উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আগ্রাসীভাবে সুদহার বাড়িয়েছে। কিন্তু সুদ বৃদ্ধির চক্র শেষে নীতিনির্ধারকরা এখন তাদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন।
২০ সদস্যের ইউরোজোনে হামবুর্গ কমার্শিয়াল ব্যাংকের চূড়ান্ত ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) ৫০-এর নিচে অবস্থান করছে। এটি বিস্তৃত সংকোচনের প্রমাণ দিচ্ছে।
ইউরোজোনের জন্য ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই নভেম্বরে সামান্য বেড়ে ৪৪ দশমিক ২-এ দাঁড়িয়েছে, যা অক্টোবরে ৪৩ দশমিক ১ ছিল। নভেম্বরের পর্যবেক্ষণ ৪৩ দশমিক ৮-এর প্রাথমিক পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি ছিল।
শিল্পোৎপাদন পরিমাপ করে এমন আরেকটি সূচকও আগের মাসের ৪৩ দশমিক ১-এর তুলনায় ৪৪ দশমিক ৬-এ বেড়েছে। এ উৎপাদন সূচকটি সামগ্রিক কম্পোজিট পিএমআইতে অবদান রাখে, যা আগামী মঙ্গলবার প্রকাশিত হবে। এ সমন্বিত পিএমআই ইউরোজোনের বিস্তৃত অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের সূচক হিসেবে কাজ করে।
জার্মানির বেরেনবার্গ ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ হোলগার শ্মিডিং বলেন, ‘এটা অনেক বড় কোনো কাজ নয়। তবে আমরা একটি ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন দেখেছি। এটি মন্দের ভালোর বার্তাবাহক। ইউরোজোনের জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি আগামী বছরের শুরুতে শেষ হবে।’
গত মাসে সাব-ইনডেক্স কিছুটা বাড়লেও ইউরোপের হামবার্গ কমার্শিয়াল ব্যাংক সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে এ উত্থান স্বল্প ছিল। তাই একে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বললে খুব তাড়াহুড়ো করা হবে।
ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জার্মানির পিএমআই ৫০-এর নিচে রয়ে গেছে, যদিও এর উন্নতি হয়েছে। ফ্রান্সের কারখানাগুলো আবার দুর্বল চাহিদার সম্মুখীন হয়েছিল। অন্যদিকে ব্রিটেনে দীর্ঘ মন্দার মধ্যে এটি পুনরুদ্ধার হতে পারে এমন লক্ষণ রয়েছে। তবে কোম্পানিগুলো সতর্ক রয়েছে।
চীনের বেসরকারি শিল্পোৎপাদনের পিএমআই অপ্রত্যাশিতভাবে নভেম্বরে ৪৯ দশমিক ৫ থেকে বেড়ে ৫০ দশমিক ৭-এ দাঁড়িয়েছে। এটি পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে উৎপাদনকারী এবং অ-উৎপাদনকারী উভয়ের কার্যক্রম সংকোচন দেখা দেয়ার একদিন পরে পর্যবেক্ষণটি এসেছিল। অভ্যন্তরীণ বাজার ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে না। হ্যাং সেং ব্যাংক চায়নার প্রধান অর্থনীতিবিদ ড্যান ওয়াং চীনের পিএমআই সম্পর্কে জানান, প্রাপ্ত তথ্য দেখায় কারখানাগুলো কম উৎপাদন এবং কম লোক নিয়োগ করছে।
রফতানিনির্ভর জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের উৎপাদন কার্যক্রম নভেম্বরে স্থবির থাকায় বৈশ্বিক চাহিদা মন্থর হয়ে পড়েছে।
অর্থনীতিবিদ তোরু নিশিহামা জানান, এশিয়ার দ্রুত পুনরুদ্ধারের আশা করা কঠিন। রফতানি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও দুর্বল বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির কারণে তা খুব বেশি ত্বরান্বিত হবে না।
জাপানের অউ জিবুন ব্যাংকের চূড়ান্ত পিএমআই নভেম্বরে ৪৮ দশমিক ৭ থেকে ৪৮ দশমিক ৩-এ নেমে এসেছে, যা নয় মাসের মধ্যে দ্রুতগতিতে সংকুচিত হয়েছে। নভেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার পিএমআই ছিল ৫০, যা অক্টোবরের ৪৯ দশমিক ৮ থেকে সামান্য বেড়েছে।
এদিকে তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়ায়ও কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছিল। তবে ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনে প্রসারিত হয়েছে।










