রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য খুবই পরিচিত দৃশ্য। বিশেষ করে পেঁয়াজের দাম ঝাঁঝালো হয়ে পড়ে। চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে তদারকিসহ প্রশাসনের নানামুখী পদক্ষেপে দিনাজপুরের হিলিতে আমদানীকৃত ও দেশীয় পেঁয়াজের দাম কমেছে।
তিনদিন আগে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজ ৪৫ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২৮-৩৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ টাকা থেকে কমে ২৮-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে এ পেঁয়াজের পরিমাণ কম রয়েছে। নিত্যপণ্য পেঁয়াজের দাম কমায় খুশি নিম্ন আয়ের মানুষ।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘একে তো রমজান মাস, এমনিতেই অন্যান্য সময়ের তুলনায় বাড়তি খরচ হয়। এর ওপর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অবস্থা আরো খারাপ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে ২০-২২ টাকার ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ টাকা আর ২৫-৩০ টাকার দেশী পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় উঠেছিল। বাধ্য হয়ে যেখানে এক কেজি লাগত, সেখানে আড়াইশো গ্রাম বা আধা কেজি কিনে চলতে হচ্ছিল। তবে পেঁয়াজের দাম আবারো কমতে শুরু করেছে। এতে আমাদের মতো মানুষের সুবিধা হয়েছে।’
পেঁয়াজ কিনতে আসা মেহেরুন নেসা বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে পেঁয়াজের দাম কম ছিল। কিন্তু ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর ছড়াতেই বাজারে আগুন লেগে গেল। দাম বাড়তে বাড়তে ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ টাকা আর দেশীয় পেঁয়াজ ৪৫ টাকায় উঠে গেল। তবে দু-তিনদিনের ব্যবধানে আবারো পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। বাজারে প্রশাসনের তদারকি আরো জোরদার করা প্রয়োজন। তাতে দাম আরো কমবে বলে মনে করছি।’
হিলি বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী শাকিল খান বলেন, ‘১৬ মার্চ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এ সুযোগে অনেক ব্যবসায়ী পেঁয়াজ মজুদ করে রেখেছিলেন। তেমনি দেশীয় পেঁয়াজের দাম খানিকটা বাড়িয়ে দেন কৃষকরা।’
তিনি আরো বলেন, ‘সম্প্রতি দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন বাজার মনিটরিংসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা শুরু করেছেন। এতে যারা পেঁয়াজ মজুদ করে রেখেছিলেন তারা মজুদকৃত পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ছেন। বিশেষ করে যে দেশীয় পেঁয়াজ মোকামে ১ হাজার ৬০০ টাকা মণ উঠে গিয়েছিল, তা কমে ৯০০ টাকায় নেমেছে।’
পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন বলেন, ‘দেশের বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অনুমতি নিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হতো। আমাদের বেশকিছু পেঁয়াজের আইপি নেয়া ছিল। কিন্তু সরকার নতুন-পুরনো সব আইপির মেয়াদ ১৫ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এর পরে নতুন করে কোনো আইপি না দেয়ায় বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের কারণে এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫০ টাকার ওপরে পেঁয়াজের দাম উঠে গিয়েছে। কিন্তু যদি এ সময় পেঁয়াজের আইপি দেয়া হতো, তাহলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ১০-১৫ টাকার মধ্যে থাকত। যেহেতু রমজান মাস চলছে, এ সময়ে পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদা থাকে। সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখে বাজার স্থিতিশীল রাখতে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) দেয়া সরকারের উচিত বলে আমরা মনে করছি।’
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বন্দর দিয়ে সর্বশেষ ১৫ মার্চ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এরপর বন্দর দিয়ে কোনো প্রকার পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। এতে বন্দর কর্তৃপক্ষ যেমন তাদের দৈনন্দিন আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের আয় কমেছে।’









