বৈরী আবহাওয়ার কারণে চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা উৎপাদন খাত। রফতানি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর মধ্যেই ২০২২-২৩ মৌসুমে দেশটির তুলা রফতানি পূর্বাভাস কমিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)।

ইউএসডিএর প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্র সব মিলিয়ে ১ কোটি ২৫ লাখ বেল তুলা রফতানি করতে সক্ষম হবে। নতুন পূর্বাভাসে রফতানির পরিমাণ এক লাখ বেল কমানো হয়েছে।

এদিকে রফতানি কমার কারণে দেশটিতে তুলার মজুদ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন পূর্বাভাসে মজুদের পরিমাণ এক লাখ বেল বাড়ানো হয়েছে। তবে উৎপাদনের পরিমাণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২০২২-২৩ মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে সব মিলিয়ে ১ কোটি ৩৮ লাখ বেল তুলা উৎপাদন হবে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ।

চরম বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে বিশ্বের প্রায় সব বৃহৎ তুলা সরবরাহকারী দেশ বিপাকে পড়েছে। আসন্ন দিনগুলোয় পোশাক ও বস্ত্র খাতের প্রধান কাঁচামালটির সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। স্পোকসম্যান রিভিউতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তুলার সবচেয়ে বড় উৎপাদক দেশ ভারত। ভারি বৃষ্টিপাত ও কীটপতঙ্গের আক্রমণে দেশটিতে তুলা উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন ঘাটতির পরিমাণ এতটাই তীব্র যে ভারত আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ চাহিদা মেটাতে বাধ্য হচ্ছে।

অন্যদিকে দাবদাহের কারণে চীনে আসন্ন তুলা উৎপাদন ও উত্তোলন নিয়ে আশঙ্কা চরম আকার ধারণ করেছে। পণ্যটির বৃহৎ রফতানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু দেশটির তুলা আবাদি অঞ্চলগুলোর জন্য বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে তীব্র খরা। এতে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যটির উৎপাদন কমে এক দশকের সর্বনিম্নে নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্রাজিল বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ তুলা রফতানিকারক দেশ। প্রতিনিয়তই মাত্রাতিরিক্ত গরম ও খরার সঙ্গে যুদ্ধ করছে দেশটির কৃষি খাত। এরই মধ্যে দেশটিতে তুলা উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমার পূর্বাভাস মিলেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়া আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দামকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে। চলতি বছরের এখন পর্যন্ত পণ্যটির দাম বেড়েছে অন্তত ৩০ শতাংশ। বছরের শুরুর দিকে তুলার দাম ২০১১ সালের পর সর্বোচ্চে উঠে আসে। এতে বিশ্বজুড়ে পোশাক সরবরাহ মার্জিন সংকুচিত হচ্ছে। পাশাপাশি টি-শার্ট থেকে শুরু করে ডায়াপার, কাগজ ও কার্ডবোর্ড পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সব পণ্য মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকিতে পড়েছে।