রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বৃহৎ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এসবারব্যাংক। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ২০২৩ সালের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অফিস বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এসবারব্যাংকের ফার্স্ট ডেপুটি চেয়ারম্যান আলেকজান্ডার ভেডিয়াকিন রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভেডিয়াকিন গণমাধ্যমকে বলেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আবুধাবিতে অবস্থিত এসবারইনভেস্ট অফিস সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত আমরা ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে মধ্যপ্রাচ্য অংশের অফিসটি বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছি।

তিনি বলেন, অফিস বন্ধ করা হলেও ইউএইর বাজারে গ্রাহকদের সেবা দেয়া অব্যাহত রাখবে এসবারব্যাংক। মূলত চীন থেকে দেশটিতে সেবা দিতে চাই আমরা। বিষয়টি নিয়ে চীনা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি, ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ আমরা চীনে একটি শাখা খুলতে সক্ষম হব।

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার আর্থিক ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আন্তর্জাতিক সুইফট পেমেন্ট সিস্টেম থেকে ব্লক করা বেশ কয়েকটি বড় রুশ ব্যাংকের মধ্যে এসবারব্যাংক অন্যতম। এমনকি ব্যাংকটির কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও ব্যক্তিগতভাবে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন।

চলতি বছরের মার্চে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) আদেশে ভিয়েনায় অবস্থিত এসবারব্যাংকের ইউরোপীয় শাখা বন্ধ করে দেয়া হয়। ইসিবি তখন এসবারব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে বলে সতর্ক করেছিল।

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্য ব্যাংক অব রাশিয়া ২০২২ সালের শুরুর দিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের তথ্য প্রকাশে সীমাবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছিল। এসবারব্যাংক বছরের শেষ প্রান্তিকে তাদের কিছু আর্থিক তথ্য প্রকাশ করেছিল। সেখানে দেখা যায়, জানুয়ারি-নভেম্বর সময়ে ব্যাংকটির নিট মুনাফা ৮৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসবারব্যাংক ডিসেম্বরে লাভজনক হওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

২০২২ সালে ব্যাংকটির করপোরেট গ্রাহক আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়ে ৩০ লাখে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট ঋণের পরিমাণ ১৩ শতাংশ বেড়ে ১৮ লাখ কোটি রুবলে (২৬ হাজার ৩৬৫ কোটি ডলার) দাঁড়িয়েছে।