বিশ্বের শীর্ষ ধনীরা গত বছরটা ভুলে যেতে চাইবেন। কারণ ২০২২ সাল তাদের কাছে কেবল হারানোর বছর ছিল। বিশ্বের বেশির ভাগ অতিধনীর সম্পদই কমে গেছে। বিশেষ করে টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্কের সম্পদ হারানোর মাত্রা ছিল উল্লেখযোগ্য। এ কারণে তিনি এবার নাম লিখিয়েছেন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। প্রতিবেদন অনুসারে, ইলোন মাস্ক ইতিহাসে ব্যক্তিগত সম্পদ কমার ক্ষেত্রে বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। মার্কিন এ ধনকুবের ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার ২০০ কোটি ডলার হারিয়েছেন। যদিও অন্যান্য তথ্য অনুসারে, তার সম্পদ কমার পরিমাণ ২০ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে বৈশ্বিক রেকর্ডস ডাটাবেজ বলেছে, ইলোন মাস্কের সম্পদ ২০২১ সালের নভেম্বরে শীর্ষে উঠেছিল। সে সময় তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার কোটি ডলার। সর্বশেষ চলতি মাসে তার সম্পদ ১৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। মূলত টেসলার শেয়ারদর কমে যাওয়ায় তার সম্পদেও পতন ঘটেছে।
গত বছরের শুরুতে মার্কিন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কভিডজনিত কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় চ্যালেঞ্জের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। সেই ধাক্কায় পুঁজিবাজারে টেসলার স্টকে ধস নামে। ২৭ জানুয়ারি একদিনেই বিশ্বের শীর্ষ এ ধনী ২ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার হারান। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার ইনডেক্সের ইতিহাসে এটি একদিনে চতুর্থ বৃহত্তম সম্পদের পতন। এর মাধ্যমেই একটি পাথুরে বছর শুরু করেছিলেন মাস্ক।
এরপর গত বছরের ১৪ এপ্রিল তিনি ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলার টুইটার কিনে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওই মাসেই টুইটারে তার ৯ দশমিক ১ শতাংশ মালিকানা থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ চুক্তির অর্থায়নের জন্য তিনি ঋণ এবং টেসলার শেয়ার বিক্রির উদ্যোগ নেন। এতে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফলে নিম্নমুখী হয় টেসলার শেয়ারদর। যদিও এরপর আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি কেনা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে জড়িয়েছিলেন তিনি। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অক্টোবরের শেষ দিকে টুইটার অধিগ্রহণ করেন তিনি।
এর মধ্যে একাধিকবার তিনি টেসলার শেয়ার বিক্রি করেছেন। ফলে পুঁজিবাজারে বিশ্বের শীর্ষ ইভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদরও নিম্নমুখী হয়েছে। পরিস্থিতি এমন হয় যে তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তকমাও হারিয়ে ফেলেন। গত বছরের শেষ দিকে ইলোন মাস্ককে হটিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ধনী হিসেবে জায়গা করে নেন এলভিএমএইচের প্রধান নির্বাহী বেহনা আহনোঁ। যদিও ২০২২ সালে তার সম্পদও প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার কমেছে। ফোর্বসের তথ্য অনুসারে, গতকাল আহনোঁর নিট সম্পদ ২০ হাজার ৩৭০ কোটি ডলার এবং ইলোন মাস্কের নিট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের প্রতিবেদনে অবশ্য স্বীকার করা হয়েছে যে এসব ক্ষেত্রে সঠিক পরিসংখ্যান নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগে সম্পদ হারানোর ক্ষেত্রে বিশ্ব রেকর্ডটি ছিল জাপানি বিলিয়নেয়ার মাসায়োসি সনের। বর্তমানে সফটব্যাংকের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রযুক্তি খাতের এ বিনিয়োগকারী ২০০০ সালে ৫ হাজার ৮৬০ কোটি ডলারের সম্পদ হারিয়েছিলেন। এ রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছেন ইলোন মাস্ক।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ইলোন মাস্কের বেশির ভাগ সম্পদই টেসলার স্টকে রয়েছে। ২০২২ সালে সংস্থাটির শেয়ারদর ৬৫ শতাংশ কমে গেছে।
বিশ্বজুড়ে গাড়ির দুর্বল চাহিদা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতার কারণে আপাতত ইলোন মাস্কের সম্পদ খুব বেশি বাড়ার আশাও নেই। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ক্রেতারা ব্যয়ের ক্ষেত্রে লাগাম টানছেন। পাশাপাশি সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় তারা গাড়ি কিনতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ ডিসেম্বর ইলোন মাস্ক টুইট করেছিলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদে মৌলিক বিষয়গুলো অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে স্বল্পমেয়াদে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।










