দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে ডালের বাজারে। টানা কয়েকদিনের অবরোধে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জের পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমায় ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে সব ধরনের ডালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মসুর ডালসহ সব ধরনের ডালের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২-১২ টাকা।
সবচেয়ে বেশি কেজিতে ১২ টাকা বেড়েছে মুগডালের দাম। এছাড়া খেসারি ডাল কেজিতে ৬ টাকা ও ফাটি মুসর ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৬ টাকা। নিতাইগঞ্জ ঘুরে দেখা যায়, বাজারে পাইকারি পর্যায়ে দেশী মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২২ টাকা কেজি দরে, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকায়। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২ টাকা করে। এদিকে বাজারে ভারতের দিল্লি সুপার ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৩২ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহে একই জাতের ডাল বিক্রি হয়েছে ১২৯ টাকা দরে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ৩ টাকা।
মোটা মসুর ডাল এক সপ্তাহ আগের ১০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০২ টাকা। কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২ টাকা। এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে ফাটি বা ভাঙা মুসর ডাল ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ৯১ টাকা, অ্যাংকর ডাল ৫৩ থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা, বুটের ডাল ৭৫-৭৮ টাকা, ভাঙা বুটের ডাল ৭৫-৭৭ টাকা, মুগডাল ১১০-১২২ টাকা, খেসারি ৭৫-৭৯ টাকা এবং ডাব্লি কেজিতে ৫২-৫৪ টাকা, চোনা বুট ৭৫-৭৭ টাকা ও বুটের ডাল ৭৮ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে খুচরা বাজারও। পাইকারিতে এসব ডালের দাম যে পরিমাণে বেড়েছে তার চেয়ে দ্বিগুন বেড়েছে খুচরা বাজারে। খুচরা পর্যায়ে মোটা মসুর, খেসারি, মুগ ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০-১২ টাকা।
নিতাইগঞ্জের ডাল ব্যবসায়ী বিকাশ সাহা জানান, গত এক সপ্তাহ বাজারে সরবরাহ কম থাকায় সব ধরনের ডালের দাম বেড়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বা হরতাল অবরোধের কারণে মিল থেকে পণ্য সরবাহ বন্ধ ছিল। হরতাল অবরোধ শেষ হলে শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ ছিল। তাই নতুন পণ্য মিল থেকে বাজারে এসেছে কম পরিমাণে। এসব কারণে বাজারে সব রকমের ডালের দাম বেড়েছে।
ডাল ব্যবসায়ী জাকির হোসেন জানান, ডালার সংকট ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিদেশ থেকে আমদানিনির্ভর সব পণ্যের দাম চড়া যাচ্ছে। তার ওপর মরার ওপর খাড়ার ঘাঁ হয়েছে দেশের অভ্যন্তরে আগামী নির্বাচনকে ঘিরে হরতাল-অবরোধ। এসব কর্মসূচি থাকলে পণ্যবাহী সব ধরনের যানবাহন একেবারেই সীমিত হয়ে আসে। টানা তিনদিনের অবরোধের পর দুদিন সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি থাকায় বাজারে ডালের সরবরাহ কমে গেছে। আর হরতাল অবরোধের কারণে মফস্বলের ক্রেতারা শুক্র-শনি নিতাইগঞ্জে ভিড় করেছেন। সরবরাহ কমের মধ্যে ক্রেতার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে।










