চাল বিশ্বের জনপ্রিয় খাবারগুলোর একটি। বিশ্বজুড়ে ৩৫০ কোটির বেশি মানুষের নিত্যদিনের আহার এটি। শর্করা ও ভিটামিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস চাল থেকে তৈরি ভাত ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য। প্রচলিত সিদ্ধ চালের পাশাপাশি অনেক ধরনের বৈচিত্র্যপূর্ণ চাল রয়েছে। কিছু চাল রয়েছে যেগুলোর দাম আকাশচুম্বী। বিশেষ উৎপাদন পদ্ধতি, স্বাদের অনন্যতা কয়েকটি জাতের চালের দামকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনই কিছু দামি চাল নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজনের আজ তৃতীয় পর্ব—
নানা জাতের চাল উৎপাদনে ভারতের জুড়ি মেলা ভার। আয়তনে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম এ দেশটি কৃষি খাতে বেশ প্রসিদ্ধ। দেশটিতে উৎপাদিত খাদ্যশস্যের মধ্যে এক বিরাট জায়গা দখল করে আছে নানা জাতের চাল। চাল উৎপাদনের বৈশ্বিক তালিকায় ভারত দ্বিতীয়। আর রফতানিতে শীর্ষ। দেশটির একেকটি রাজ্যে একেক ধরনের চাল উৎপাদিত হয়। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এসব চাল স্বতন্ত্র। শুধু স্বাদে নয়, রঙ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণে প্রতিনিয়ত একে অপরকে টেক্কা দিতে সক্ষম এসব চাল। আকারের দিক থেকেও এসব চালের রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। কোনোটা স্বচ্ছ সাদা তো কোনোটা লালচে, কোনোটা আবার একেবারে কালো। এছাড়া খয়েরি, মোটা, মাঝারি বা সরু নানা ধরনের চালে সমৃদ্ধ দেশ ভারত।
এ রকম বিভিন্ন জাতের চালের জন্মভূমি ভারতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দামি চাল কোনটি জানেন কি? জনপ্রিয়তার বিষয়টা অনেকটা আপেক্ষিক। কারণ দেশটির একেক রাজ্যে একেক ধরনের চাল জনপ্রিয়। তবে ভারতজুড়ে উৎপাদিত সবচেয়ে দামি চালের তালিকা করলে চোখ বন্ধ করে বলে দেয়া যাবে সোনা মাসুরির নাম। প্রতি কেজি সোনা মাসুরির জন্য আপনাকে গুনতে হতে পারে মোটামুটি ৪০০ রুপির (স্থানীয় মুদ্রা) মতো।
মূলত ভারতের দুটি জনপ্রিয় ধানের জাত সোনা ও মাসুরি থেকে বিকশিত হয়ে একত্রে সোনা মাসুরি চালের উদ্ভব হয়েছে। এটি উচ্চফলনশীল জাতের ধান, যা ভারতে খুব জনপ্রিয়। বিশেষত দক্ষিণ ভারতে। এ চালকে দক্ষিণ ভারতের মুক্তা বলা হয়ে থাকে। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় অঞ্চলের অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকে এ জাতের চাল উৎপাদন হয় এবং এ অঞ্চলের খাবারের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এটি। তেলেগু ভাষায় চালটিকে বাঙ্গারু থেগালু নামে ডাকা হয়, যার অর্থ স্বর্ণলতা। এছাড়া ভারতে এ জাতের চাল স্বর্ণ মাসুরি, সাম্বা মাসুরি, বিপিটি-৫২০৪, এইচএমটি নামেও পরিচিত।
সোনা মাসুরি জাতের চাল আকারে মাঝারি। মাপে হালকা ও সুগন্ধযুক্ত। সূক্ষ্ম দানার চালটি প্রিমিয়াম ধাঁচের। বহির্বিশ্বে খাদ্যপণ্যটির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ যেমন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে প্রচুর সোনা মাসুরি রফতানি করে ভারত। বিরিয়ানি, ফ্রাইড রাইস বা স্টিমড রাইস তৈরিতে সোনা মাসুরির ব্যাপক ব্যবহার হয়ে থাকে।
পুষ্টিগুণেও সোনা মাসুরি অনন্য। বিশেষ করে ইনস্ট্যান্ট এনার্জির জন্য চালটি বহুল ব্যবহূত। প্রতি ১০০ গ্রাম সোনা মাসুরি চালে গড়ে ৩৫৫ দশমিক ৫ গ্রাম ক্যালোরি থাকে। ফ্যাট থাকে ১ দশমিক ১ গ্রাম। এছাড়া ২ দশমিক ২ গ্রাম ফাইবারসহ ৭৯ দশমিক ৯ গ্রাম কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ চাল এটি। প্রোটিন রয়েছে ৮ দশমিক ৮ গ্রাম। ৪ দশমিক ৪ শতাংশ আয়রন সমৃদ্ধ চালটিতে কোলেস্টেরলের পরিমাণ শূন্য।
তবে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের সোনা মাসুরি চালের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কারণ চালটিতে কিছুটা উচ্চমাত্রার গ্লাইসেমিক রয়েছে। তবে আপনি যদি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য এটা দুর্দান্ত এনার্জির উৎস হতে পারে।
বিশেষত যারা কঠিন পরিশ্রমের কাজ করেন, তাদের জন্য একটি ব্যস্ত দিন শেষে নিজেকে চাঙ্গা রাখতে খাদ্য তালিকার শীর্ষে থাকতে পারে সোনা মাসুরি চাল।
বিজনেস লাইন ও কুয়োরা দ্য বেটার ইন্ডিয়া










