দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে দুদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা। চাহিদার তুলনায় আমদানি বাড়ায় দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুদিন আগে যেসব পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২২-২৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল বর্তমানে তা কমে হয়েছে ১৭-২২ টাকা। দাম কমায় স্বস্তি পেয়েছে বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকারদের মাঝে।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত। ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১৭-১৮ টাকা কেজি দরে, যা দুদিন আগে ছিল ২২-২৩ টাকা। আর নাসিক জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২২-২৩ টাকা কেজি দরে, যা দুদিন আগে ছিল ২৫-২৬ টাকা।
হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকার আইয়ুব আলী বলেন, ‘বাজারে দেশীয় পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় মোকামগুলোয় আমদানীকৃত পেঁয়াজের তেমন একটা চাহিদা ছিল না। ফলে কিছুদিন ধরে পেঁয়াজ ক্রয় বন্ধ রেখেছিলাম। আজ (বুধবার) পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা করে কমেছে। প্রতি কেজি সাড়ে ১৭ টাকা কেজি দরে কিনেছি। বন্দরে দাম কমায় আমাদের কিনতে যেমন সুবিধা হচ্ছে, তেমনি মোকামগুলোয় কিছুটা চাহিদা বাড়ছে।’
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোজাম হোসেন বলেন, ‘রমজান মাসকে ঘিরে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক ব্যাংকগুলো খাদ্যদ্রব্য জাতীয় পণ্যের এলসি দেয়া অব্যাহত রেখেছে। এতে বন্দরের অনেক আমদানিকারক পেঁয়াজের এলসি খুলছেন। দেশের বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে আমদানিকারকরা কম-বেশি পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রেখেছেন। এতে আমদানি আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। দেশীয় পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় আমদানীকৃত পেঁয়াজের দাম কমেছে। ফেব্রুয়ারিজুড়ে চাহিদা কমই থাকবে। তবে আগামী মার্চ ও এপ্রিল নাগাদ চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। আগে বন্দর দিয়ে প্রতিদিন তিন-পাঁচ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৮-১০ ট্রাক আমদানি হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৮৪ হাজার ৫৩৮ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময় আমদানি হয়েছে ৭৪ হাজার ৩০৬ টন। এক বছরের ব্যবধানে আমদানি বেড়েছে ১০ হাজার ২৩২ টন।









