থাইল্যান্ডে রফতানিযোগ্য চালের দাম আগে থেকেই বাড়তির দিকে ছিল। এ ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সপ্তাহে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির রফতানি মূল্য আরো বেড়ে আট মাসের সর্বোচ্চে উন্নীত হয়েছে। ভারত ও ভিয়েতনামের বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে চাল। খবর রয়টার্স ও বিজনেস রেকর্ডার।
ভারত বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ। দেশটির বাজারে সর্বশেষ সপ্তাহে রফতানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৩৮৩-৩৯০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহেও দেশটিতে এ চালের দাম একই ছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বরের পর এটাই ভারতের বাজারে খাদ্যপণ্যটির সর্বোচ্চ দাম।
মূলত বাড়তি রফতানি চাহিদা ভারতীয় চালের রফতানি মূল্য বেড়ে যাওয়ার পেছনে মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলো ভারত থেকে চাল আমদানি বাড়িয়েছে। এমনকি ভিয়েতনামের মতো অন্যতম শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ চলতি বছর ভারত থেকে খাদ্যপণ্যটির আমদানি চুক্তি করেছে। সব মিলিয়ে ভারতীয় চালের রফতানি বাজার চাঙ্গা রয়েছে। আর এ চাঙ্গা ভাবের জের ধরে ভারতের বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে রফতানিযোগ্য চাল।
তবে সর্বশেষ সপ্তাহে ভারতে অপরিবর্তিত থাকলেও থাইল্যান্ডে রফতানিযোগ্য চালের দাম বেড়েছে। চাল রফতানিকারক দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় থাইল্যান্ডের অবস্থান দ্বিতীয়। সর্বশেষ সপ্তাহে দেশটির বাজারে রফতানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৫২০-৫২৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহে তা টনপ্রতি ৫১৫-৫২০ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যটির দাম টনে ৫ ডলার বেড়েছে। আট মাসের মধ্যে এটাই থাই চালের সর্বোচ্চ রফতানি মূল্য।
প্রতিকূল আবহাওয়ার জের ধরে সংকটময় সময় পার করছেন থাইল্যান্ডের চাল ব্যবসায়ীরা। কমে এসেছে ধান-চাল সরবরাহ। মূলত এ কারণে দেশটির বাজারে রফতানিযোগ্য চালের দাম আট মাসের সর্বোচ্চে উন্নীত হয়েছে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা।
চাল রফতানিকারক দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় ভিয়েতনাম তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। সর্বশেষ সপ্তাহে দেশটিতে চালের রফতানি মূল্য অপরিবর্তিত ছিল। এ সময় দেশটির বাজারে রফতানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৫০০-৫০৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে। যদিও ভিয়েতনামের বাজারে ২০১১ সালের ডিসেম্বরের পর সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে রফতানিযোগ্য চাল।
দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিদায়ী বছরে ভিয়েতনাম থেকে সব মিলিয়ে ৬১ লাখ ৪৬ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এর মধ্য দিয়ে ২০২০ সালে চাল রফতানির বার্ষিক লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে ভিয়েতনাম।










