বিশ্বজুড়েই লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য আলোচিত বিষয়। উন্নত দেশগুলো নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সোচ্চার হলেও প্রদীপের গোড়ায় অন্ধকারের মতোই সেখানেও কর্মস্থলে আশানুরূপ লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ২০২২ সালে আমেরিকায় পুরুষরা যখন ঘণ্টায় গড়ে ১ ডলার উপার্জন করে, বিপরীতে পূর্ণ ও খণ্ডকালীন চাকরিজীবী নারীরা উপার্জন করে গড়ে ৮২ সেন্ট। তথ্যটি উঠে এসেছে পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণায়।
অথচ ১৯৮২ সালে নারীদের এ আয়ের পরিমাণ ছিল ৬৫ সেন্ট। প্রায় ৪০ বছরের ব্যবধানে আয়ের পরিমাণ বাড়লেও প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠিত হয়নি লিঙ্গভিত্তিক বেতন সমতা। আবার ২০০২ সালে নারীদের এ আয়ের পরিমাণ ছিল ৮০ সেন্ট। ২০০২-২২ দুই দশকের ব্যবধানে বৃদ্ধির পরিমাণটি আশানুরূপ নয়।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের পক্ষ থেকে বলা হয়, উচ্চশিক্ষা ও উচ্চবেতনের চাকরিতে যোগদান এবং শ্রমবাজারে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ১৯৮২ সাল থেকে নারীদের কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে রেখেছে। তবে নারীরা শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনে পুরুষদের ছাড়িয়ে গেলেও ২০০২ সাল থেকে তাদের বেতন একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আটকে আছে। অর্থাৎ ৮০ থেকে মাত্র ৮৫ সেন্টে উন্নীত হয়েছে।
দুই দশকের ব্যবধানেও কেন লিঙ্গভিত্তিক বেতন বৈষম্য কমেনি, সে সম্পর্কে পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষণা বলছে, নারীদের সঙ্গে কী ঘটছে—বিভিন্ন সেক্টরের উচ্চপর্যায় থেকে সে সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ গল্পগুলো বলা হয় না।
গবেষণায় আরো বলা হয়, ২৫-৩৪ বছরের নারীদের পুরুষের কাছাকাছি বেতন প্রাপ্তির সম্ভাবনা বেশি থাকে। নারীদের বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ সম্ভাবনা কমতে শুরু করে। ২০০৭ সাল থেকে দেখা যায় পুরুষদের ১ ডলার আয়ের বিপরীতে অল্প বয়ষ্ক নারীদের আয়ের পরিমাণ ৯০ সেন্ট। তবে কর্মজীবনের শুরুতে নারীদের বেতন সমতা থাকলেও চাকরির বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তা কমতে থাকে।
পিউ গবেষণায় উঠে এসেছে এক্ষেত্রে নারীদের সন্তান থাকা একটি বড় কারণ। মাতৃত্ব অনেক নারীকে তাদের ক্যারিয়ার থেকে বিরতি নেয়া কিংবা খণ্ডকালীন কাজের দিকে ঠেলে দেয়। তাছাড়া সন্তান রয়েছে, এমন ৩৫-৪৪ বছর বয়স্ক পুরুষরা উচ্চবেতন পেলেও একই ধরনের নারীদের বেতন তুলনামূলক কম।
২০২২ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, ২৫-৩৪ বছর বয়সী কর্মজীবী বাবাদের তুলনায় কর্মজীবী মায়ের আয়ের পরিমাণ কম। তবে একই বয়সের সন্তানহীন নারীর আয়ের পরিমাণ পুরুষের তুলনায় ৯৭ শতাংশ। বিপরীতে ৩৫-৪৪ বছর বয়সী কর্মজীবী নারীরা—সন্তানসহ বা ছাড়া ৮০ শতাংশ উপার্জন করে বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে।
পিউ গবেষণায় আরো উঠে এসেছে যে কালো নারীরা গত বছর সাদা পুরুষদের তুলনায় মাত্র ৭০ শতাংশ উপার্জন করেছে। হিস্পানিক মহিলারা করেছেন ৬৫ শতাংশ। তবে সাদা নারীদের ক্ষেত্রে ব্যবধান কম ছিল, যা ৮৩ শতাংশ। তাছাড়া এশিয়ান নারীরা সমতার সবচেয়ে কাছাকাছি ছিল, পুরুষের তুলনায় তাদের গড় আয়ের পরিমাণ ৯৩ শতাংশ।
কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, পেশাসহ বিভিন্ন পার্থক্যের কারণে লিঙ্গভিত্তিক মজুরি ব্যবধান বর্ণ ও জাতিসত্তা ভেদে পরিবর্তিত হয় বলে উল্লেখ করেছে গবেষণাটি। তবে গবেষণাটিতে বলা হয় বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠীসহ এলজিবিটিকিউ ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের বিরুদ্ধে মজুরি বৈষম্যের নতুন তথ্য উঠে এসেছে। নিয়োগকালীন মজুরি বৈষম্য উপার্জনের পার্থক্য তৈরির মাধ্যমে কর্মীদের সুযোগগুলোকে নষ্ট করে দিতে পারে।










