ছুটির মৌসুমে খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানও বিক্রয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আশাবাদী থাকে। কিন্তু করোনা-পরবর্তী বৈশ্বিক অস্থির আবহ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সব মিলিয়ে বড়দিনের বিক্রি ঘিরে আমেরিকার ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল এক ধরনের অনিশ্চয়তা। সে সঙ্গে ছিল খাবারের দাম থেকে শুরু করে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব। স্বাভাবিকভাবেই ছুটির মৌসুমে পণ্য বিক্রি নিয়ে শঙ্কা ছিল বিক্রেতাদের মনে। তবে মাস্টারকার্ড স্পেন্ডিংপালসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও মার্কিন নাগরিকদের ব্যয় স্থিতিশীল থাকাতে ছুটির মৌসুমে বিক্রি বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। খবর এপি।

নগদ অর্থ, ডেবিট কার্ডসহ সব ধরনের লেনদেন ট্র্যাক করে মাস্টারকার্ড স্পেন্ডিংপালস। তাদের তথ্য অনুসারে, চলতি ছুটির মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ, যা ২০২১ সালের ৮ দশমিক ৫ শতাংশ বিক্রয় বৃদ্ধির তুলনায় কম হলেও খানিকটা আশার ইঙ্গিত দেয়। গত বছরের প্রথম দিকে মূলত মহামারী পরিস্থিতি খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর ক্রেতারা তাদের সঞ্চিত অর্থ খরচ করতে শুরু করে।

তবে চলতি বছর বিক্রয় বৃদ্ধির পরিমাণ প্রত্যাশার থেকে বেশি হয়েছে বলেই জানাচ্ছে মাস্টারকার্ড স্পেন্ডিংপালস। তাদের পক্ষ থেকে অবশ্য আশা করা হয়েছিল বিক্রি বৃদ্ধির পরিমাণ বাড়তে পারে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। সোমবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায় একমাত্র গাড়ি নির্মাণ শিল্প বাদে অন্য খাতগুলোর বিক্রি খানিকটা বেড়েছে। যদিও উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়াটা এখনো যন্ত্রণাদায়ক পর্যায়েই রয়েছে।

মূলত ১ নভেম্বর থেকে শুরু করে ২৪ ডিসেম্বর মার্কিন খুচরা বিক্রেতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—নাগরিকদের পোশাক ক্রয় ও রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি দ্বারা অর্থপ্রবাহ বেড়েছে।

বিভাগ অনুসারে পোশাক ক্রয় বাবদ ব্যয়ের পরিমাণ বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, যদিও যখন গহনা ও ইলেকট্রনিকস ক্রয় বাবদ ব্যয় প্রবণতা কমেছে ৫ শতাংশ। তবে অনলাইন বিক্রয় এক বছর আগের তুলনায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে এবং সরাসরি ক্রয়ের প্রবণতা বেড়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলোয় ২০২১ সালের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে ১ শতাংশ।

মাস্টারকার্ডের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিভ স্যাডোভ বলেন, ‘চলতি ছুটির মৌসুমটি গত বছরের তুলনায় ভিন্ন ছিল। খুচরা বিক্রেতারা প্রচুর ছাড় দিয়েছেন, মহামারী পরিস্থিতির গুমোট আবহ থেকে বেরিয়ে ক্রেতারাও তাদের সঞ্চিত অর্থ খরচের ক্ষেত্রে উদারতা দেখিয়ে উৎসব মৌসুমকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছেন।’

কিছু ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের প্রভাবগুলো উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কার্যকলাপের প্রায় ৭০ শতাংশ ভোক্তা ব্যয় দ্বারা চালিত। তবে ১৮ মাস আগে মূল্যস্ফীতি প্রথম বৃদ্ধি পাওয়ার পরও মার্কিন নাগরিকদের ব্যয়ের পরিমাণ স্থিতিশীল ছিল। যদিও পরিস্থিতি এখন খানিকটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করেছে। বিশেষ খাবার ও বাড়ি ভাড়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোয় অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে তাদের। এক বছর আগের তুলনায় নভেম্বরে দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ, যা জুনের ৯ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় কম। তবে পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে অনেক ক্রেতাই জাতীয় ব্র্যান্ডের তুলনায় কম ব্যয়বহুল পণ্য ক্রয়ের দিকে ঝুঁকছেন ও সস্তা দোকানে যাচ্ছেন।