২০২৪ সাল নাগাদ মুনাফায় ফেরার আশা করেছে আফ্রিকার উড়োজাহাজ শিল্প সংস্থা। যদিও নিয়ন্ত্রণ অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ জ্বালানিমূল্য মুনাফা অর্জনে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সম্প্রতি অঞ্চলটির উড়োজাহাজ পরিবহন শিল্প সংস্থার বার্ষিক আলোচনা সভায় সংশ্লিষ্টরা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। খবর রয়টার্স।
দুর্বল অবকাঠামো ও যোগাযোগের অভাবে আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ উড়োজাহাজ ভ্রমণ দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে ভ্রমণকারীরা প্রায়ই তাদের ভ্রমণের অংশ হিসেবে এ মহাদেশের বাইরে তৃতীয় কোনো গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন।
এ সমস্যা কভিড-১৯ মহামারীতে আরো তীব্র আকার ধারণ করায় কয়েকটি রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছিল। কঠোর লকডাউনে যাত্রী সংখ্যা কমে গিয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
আন্তর্জাতিক এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট কামিল আলাওয়াধি বলেন, বাজার প্রক্রিয়া ও যোগাযোগ সমস্যা আফ্রিকায় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর মুনাফা অর্জনে প্রধান বাধা হিসেবে কাজ করছে। দূরের গন্তব্যগুলোয় ভ্রমণ পুনরুদ্ধার বিলম্ব হওয়ায় এ প্রক্রিয়া আরো ধীর হয়েছে। এ কারণে অঞ্চলটির পর্যটন ও বাণিজ্য খাত বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলীয় এয়ারলাইনস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি আরো বলেন, এ সমস্যার কারণে দেশটির বাজার থেকে বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাকে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে প্ররোচিত করবে। ফলে উড়োজাহাজ শিল্প সংস্থার সম্প্রসারণ এবং বাজার প্রক্রিয়াকে সীমাবদ্ধ করবে।
মহামারীতে বিপর্যয়ে পড়া বিশ্বব্যাপী যাত্রী ও পণ্য পরিবহন খাত পুনরুদ্ধারে যখন উড়োজাহাজ শিল্প সংস্থাগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, সে সময়েই এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রধান প্রভাবক হিসেবেও কাজ করছে। পাশাপাশি এ যুদ্ধ আফ্রিকাজুড়ে উড়োজাহাজের জ্বালানি সংকটকেও ত্বরান্বিত করেছে।
কামিল আলাওয়াধির লিখিত বক্তব্য অনুসারে, বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলীয় আফ্রিকায় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর সক্ষমতা ২০১৯ সালের পর্যায়ের চেয়ে ৩২ দশমিক ৭ শতাংশে রয়েছে। পূর্ব আফ্রিকায় এ হার মাত্র ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে আফ্রিকার অন্যান্য অঞ্চলের সক্ষমতা ২০১৯ সালের স্তরের চেয়ে বেশি রয়েছে। এ অঞ্চলগুলোয় বর্তমান সক্ষমতা মহামারীর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
আলাওয়াধি বলেন, আইএটিএর হিসাব অনুযায়ী ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী উড়োজাহাজ পরিবহন শিল্পের লোকসানের পরিমাণ ৯৭০ কোটি ডলারে নেমে আসবে। তবে ২০২৩ সালে এ শিল্প খাত মুনাফায় ফিরে আসবে। যদিও আফ্রিকার এয়ারলাইনসগুলোর মুনাফায় ফিরতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময় লাগবে।










