গত জুনে খুচরা বিক্রি বেড়েছিল দশমিক ২ শতাংশ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে জুলাইয়ে সামান্য প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেন অর্থনীতিবিদরা। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের ব্যয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায় এপ্রিল ও মে মাসে। জুনেও বিশ্বকাপ ও অ্যামাজন প্রাইম ডের মতো বড় কেনাকাটার আয়োজনে ভোক্তাদের ব্যয় বেড়েছিল। কিন্তু জুলাইয়ে সে গতি ধরে রাখা যায়নি।

খুচরা বিক্রির দুর্বল তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা ব্যয়ের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও পেট্রলের বাড়তি দামের মধ্যেও এতদিন দেশটির অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার অন্যতম প্রধান শক্তি ছিল ভোক্তা ব্যয়। জুলাইয়ের তথ্য সে শক্তিতে কিছুটা ভাটা পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানের তথ্যও প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল ছিল। খুচরা বিক্রি ও কর্মসংস্থানের এ দুই তথ্য একসঙ্গে অর্থনীতির গতি কমে আসার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ভোক্তা ও ব্যবসায়িক ব্যয়ের ওপর ভর করে মার্কিন অর্থনীতি শক্তিশালী ছিল। এখন সে গতি কিছুটা কমতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

অন্যদিকে চলতি মাসে মার্কিন ভোক্তাদের দেশটির অর্থনীতি নিয়ে হতাশাও বেড়েছে।

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোক্তা আস্থা সূচকের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে অর্থনীতি নিয়ে মানুষের আশাবাদ কমেছে। এর পেছনে দীর্ঘদিন ধরে থাকা উচ্চমূল্য অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

তবে বেশির ভাগ অর্থনীতিবিদ এখনো মনে করছেন, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি মোটামুটি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে। তার পরও খুচরা বিক্রির দুর্বল তথ্যের পর অনেকেই তাদের পূর্বাভাস কমিয়েছেন। উল্লেখ্য, জুলাইয়ের খুচরা বিক্রির হিসাবে মূল্যস্ফীতির প্রভাব সমন্বয় করা হয়নি।

এদিকে জ্বালানির দাম আগস্টেও বেড়েছে। মোটর ক্লাব এএএর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম রাতারাতি বেড়ে ৪ দশমিক ৮ ডলারে উঠেছে। এক মাস আগে দাম ছিল ৩ ডলার ৮৫ সেন্ট। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখন প্রতি গ্যালনে ৯২ সেন্ট বেশি দাম দিতে হচ্ছে মার্কিন ভোক্তাদের।

সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি চালানোর মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগস্টে জ্বালানির দাম কমতে শুরু করে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এএএ জানায়, বছরের শেষ সময়ে জ্বালানির দাম এত বেশি থাকা নজিরবিহীন।

গ্যাস স্টেশন ও গাড়ির বিক্রি বাদ দিলেও জুলাইয়ে খুচরা বিক্রিতে পতন দেখা গেছে। এ দুই খাত বাদ দিলে খুচরা বিক্রি কমেছে দশমিক ২ শতাংশ। মোটরগাড়ি ও যন্ত্রাংশ বিক্রেতাদের ব্যবসা কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। এর আগে জুনে এ খাতে ১ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। গাড়ি নির্মাতাদের বিভিন্ন মূল্যছাড়ের কারণে জুনে বিক্রি বাড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রে ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির বিক্রিও জুলাইয়ে দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। অনলাইন বিক্রিতে পতন ছিল আরো বেশি। জুনের তুলনায় জুলাইয়ে অনলাইন বিক্রি কমেছে ২ দশমিক ২ শতাংশ।