চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৮৮ টন চাল (মিলড) রফতানি করেছে কম্বোডিয়া, যা ২০২০ সালের একই সময়ের তুলনায় ৭৭ হাজার ২৬০ টন কম। অর্থাৎ গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের চেয়ে দেশটির চাল রফতানি কমেছে ৩৩ শতাংশ। দেশটির কৃষি, বন ও মৎস্যবিষয়ক মন্ত্রী ভেং শাখোন এ কথা জানিয়েছেন। খবর নমপেন পোস্ট।
শাখোন জানান, রফতানি করা চালের মধ্যে বাসমতি চাল ১ লাখ ৭ হাজার ৩৩৯ টন বা ৬৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বাসমতি চালের মধ্যে ‘জেমসিন’
চালই ৫৭ হাজার ৭১৪ টন বা প্রায় ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ। রফতানীকৃত চালের মধ্যে লম্বা দানার রয়েছে ৪৩ হাজার ৭৭৭ টন (প্রায় ২৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ) এবং লম্বা দানার আধাসেদ্ধ চাল ২ হাজার ৫৭০ টন (১ দশমিক ৬৭ শতাংশ)।
কৃষিমন্ত্রী জানান, গত তিন মাসে মোট ৪১টি দেশে চাল রফতানি করেছেন কম্বোডিয়ার মোট ৫১ জন রফতানিকারক। চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৯টি দেশ ছাড়াও আসিয়ানভুক্ত তিন দেশ এবং অন্য ১৮টি গন্তব্যে রফতানি করেন তারা।
কম্বোডিয়ার কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৮৫ হাজার ৩৭০ টন চাল কিনেছে চীন, যা কম্বোডিয়ার মোট রফতানির প্রায় ৫৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এছাড়া ইউরোপীয় দেশগুলো ৩৫ হাজার ৪৪২ টন (প্রায় ২৩.০৬ শতাংশ), আসিয়ান
দেশগুলো ১১ হাজার ৬৫৮ টন (৭.৫৯ শতাংশ) এবং অন্য ১৮টি দেশ ২১ হাজার ২১৮ টন (১৩.৮১ শতাংশ) চাল কিনেছে কম্বোডিয়া থেকে।
২০১৯ সালে কম্বোডিয়ার কাছ থেকে মিলড চাল আমদানি বাড়াতে সম্মত হয় চীন। তখন প্রতিবেশী দেশটি থেকে প্রতি বছর চার লাখ টন চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে তারা।
কনটেইনার ঘাটতি আর জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধির কারণে কম্বোডিয়ার চাল রফতানি কমেছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। কম্বোডিয়া রাইস ফেডারেশনের (সিআরএফ) মহাসচিব লুন ইয়েং নমপেন পোস্টকে বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, বিশেষ করে ইউরোপে, তাদের চাল রফতানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
কৃষিজাত পণ্য রফতানিতারক বেয়ন সেরিয়াল কোম্পানি লিমিটেডের সিইও ইয়র্ন সোভান বলেন, কনটেইনার ঘাটতি এখন একটা বৈশ্বিক সমস্যা, আমাদের মতো অন্য রফতানিকারক দেশও যার সম্মুখীন হয়েছে। আমি আশা করব, শিগগিরই এর উন্নতি হবে।










