বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নিরাপত্তা সহযোগিতা, শ্রম পরিবেশ উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে চায় দেশটি। রোববার রাতে রাজধানীর গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বাসভবনে নৈশভোজ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিশেষ সহকারী ও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক এইলিন লাউবাখেরের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। নৈশভোজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওয়াশিংটনের এমন আগ্রহের কথা জানান সালমান এফ রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরিন আখতার এবং দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা ইউএসএআইডির সহকারী প্রশাসক মাইকেল শিফার।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে জো বাইডেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন।৷ সেখানে তিনি বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরো গভীর করতে চাই এবং নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাই।৷ বাংলাদেশ সফররত প্রতিনিধি দলও একই কথা বলেছেন।’ প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদেরকে তাদের ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স প্রোগ্রামে (ডিএসপি) যুক্ত করতে চায়। এর জন্য তারা কয়েকটি শর্তের কথা বলেছে। এগুলো শিগগিরই জানাবে। আমরা কী কী শর্ত তা জানাতে বলেছি। এছাড়া তাদের সঙ্গে চলমান প্রকল্প অব্যাহত থাকবে।’ 

এদিকে সালমান এফ রহমানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতের পর ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে বলা হয়েছে, ‘৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণের সঙ্গে অংশীদারত্ব করছে। জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, জ্বালানি, পরিবেশ, খাদ্যনিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং আরো অনেক কিছু মোকাবেলায় ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রদান করেছে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো কীভাবে সহযোগিতা করছে তা জানতে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। আমরা আগামী ৫০ বছর এবং তার পরও অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।’