রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা ও চীনে কভিড-১৯ ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ গত সপ্তাহে বৈশ্বিক পণ্যবাজারকে কিছুটা স্থিতিশীল করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে ভয়াবহ অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। জেকে বসে মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধির উদ্বেগ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। ইস্তানবুলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কিয়েভ ও চারনিহিভে রুশ সামরিক পদক্ষেপ কমিয়ে আনতে রাজি হয় রুশ সেনারা।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের উপদেষ্টা মিখাইল পোডোলইয়াক বলেন, দেশের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার ফলাফল ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চলমান সামরিক অভিযানের ব্যাপারে ইউক্রেন ও রাশিয়ার নমনীয় বক্তব্যে বাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছিল। অন্যদিকে ইউএস ফেডেরাল রিজার্ভের বক্তব্য গত সপ্তাহে বাজারে কিছুটা চাপও সৃষ্টি করেছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছিল ১০৪ ডলার। আগামী ছয় মাসে বাজারে দৈনিক ১৮ কোটি ব্যারেল সরবরাহে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া এক ঘোষণার পর এমনটা দেখা যায়। গত সপ্তাহে পণ্যবাজারে বিক্রয় চাপের মধ্যেও বেড়েছে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম। এ সময় নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে।

এর আগে, বৈরী দেশগুলোর প্রতি রুশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস ক্রয়ের বিপরীতে ডলারের পরিবর্তে রুবলে মূল্য পরিশোধ করার নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ সময় রুবলের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে গ্যাস সরবরাহ বন্ধের হুমকিও দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। চলতি মাসের শুরু থেকেই এ নির্দেশ বাস্তবায়ন শুরু করেছে রাশিয়া।

পুতিনের এ সিদ্ধান্তের পর জার্মানি ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো ঘোষণা দেয় তারা রুবল পরিশোধ করার মাধ্যমে রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি করবে না। মার্কিন মিত্র দেশগুলোর এমন ঘোষণার পর জ্বালানির বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

পণ্যবাজারের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ধাতুর দাম গত সপ্তাহে কমে এসেছে। ইউক্রেন-রাশিয়ার শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির পর স্বর্ণের দাম গত সপ্তাহে ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে এসেছে। এ সময় প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৯২২ ডলার ৭০ সেন্ট। এছাড়া রুপার দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, প্যালাডিয়াম ২ দশমিক ৫ শতাংশ ও প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে আসে। গত সপ্তাহে শিল্প ধাতুগুলোর মধ্যে তামার দাম কমে আসে দশমিক ৫ শতাংশ, অ্যালুমিনিয়াম ৩ দশমিক ৫ ও নিকেল ৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

এ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিজাত পণ্যের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমে। সংঘাতে লিপ্ত উভয় দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনার ফলে খাদ্যশস্য উৎপাদনের পূর্বাভাস বৃদ্ধি ও তেলের দাম কমে আসা কৃষিপণ্যকে প্রভাবিত করে।

গত সপ্তাহে শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে গমের দাম ১০ দশমিক ৮ শতাংশ কমে। এ সময় সয়াবিনের দাম কমে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ভুট্টা ২ দশমিক ৭ শতাংশ ও চাল ১ দশমিক ৫ শতাংশ। ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযানের পর এ সময় প্রথমবারের মতো গমের দাম ১০ ডলারের নিচে নেমে আসে।

এ সময়ে তুলার দাম দশমিক ৮ শতাংশ কমে আসে, যা সামরিক অভিযানের প্রভাবে ২০১১ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ বিন্দু স্পর্শ করেছিল। চিনির দাম কমে আসে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে বিপরীত চিত্র দেখা যায় পানীয় পণ্য কফির ক্ষেত্রে। পানীয় পণ্যটির দাম গত সপ্তাহে ৩ দশমিক ১ শতাংশ বাড়ে।