অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণার পরদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পাশাপাশি লেনদেনও কমেছে। অন্যদিকে দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক বাড়লেও লেনদেন নিম্নমুখী ছিল। নীতি সুদহার বাড়ানোর প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেন শুরুর পর থেকে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সকাল ১০টার পর সূচক নামতে শুরু করে। এ সময় কখনো সূচক ঊর্ধ্বমুখী আবার কখনো নিম্নমুখী। দ্বিতীয়ার্ধে ক্রয় চাপ কমে যাওয়ার প্রভাবে সূচক নিম্নমুখী ছিল।

গতকাল দিন শেষে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৯ পয়েন্ট কমে ৬ হাজার ৩৩৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৬ হাজার ৩৪৬ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইর ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ ৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১৩৯ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গতকাল দিন শেষে ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৮৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৩৯০ পয়েন্ট।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক মুদ্রানীতিতে সুদহার বাড়ানোর ফলে পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিচ্ছেন। তারা মনে করছেন, পুঁজিবাজারের তুলনায় ব্যাংক আমানতে বেশি রিটার্ন আসবে, যার প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে। তবে কিছু বিনিয়োগকারী বাছাইকৃত কিছু শেয়ার কিনেছেন। 

সূচকের উত্থানে গতকাল সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল বিডি থাই, জেমিনি সি ফুড, ওরিয়ন ইনফিউশন, দেশবন্ধু, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ও এমবি ফার্মার শেয়ারের। ডিএসইতে গতকাল ৬৩৭ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৭৬০ কোটি টাকা। এদিন এক্সচেঞ্জটির লেনদেন কমেছে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ। এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ৩৩৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ৫৬টির, কমেছে ১১১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৭২টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্র অনুসারে, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৭ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ দখলে ছিল প্রকৌশল খাতের। ১১ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ৮ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল খাদ্য খাত। আর বিবিধ খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৭ দশমিক ১ শতাংশ। গতকাল ডিএসইতে ইতিবাচক রিটার্নের দিক দিয়ে শীর্ষে সাধারণ বীমা, প্রকৌশল ও কাগজ খাত। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নের শীর্ষে ছিল ভ্রমণ, সেবা ও চামড়া খাত। 

সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ১৪ পয়েন্ট বেড়ে ১১ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১১ হাজার ২৩৪ পয়েন্টে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৮ হাজার ৭৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৮ হাজার ৮০৬ পয়েন্টে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৬৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৩৮টির, কমেছে ৬৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৬৫টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।