ইস্পাত উৎপাদনে ভারত বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ দেশ। চলতি বছরের মাঝামাঝি রফতানিতে শুল্কারোপ করা হলে দেশটির ইস্পাত রফতানি খাতে মন্দা দেখা দেয়। ফলে রফতানি তো কমেই, পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে আমদানি বাড়িয়ে দিতে হয় ভারতকে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের শেষে এসে দেখা গেছে টানা তৃতীয় মাসের মতো নিট ইস্পাত আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে ভারত, যা দেশটির ইস্পাত খাতের জন্য এক ধরনের সতর্ক বার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুই বছরে এবারই প্রথম এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

দেশটির কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ১৮ লাখ ৪৬ হাজার টন আমদানির বিপরীতে ভারত রফতানি করেছে ১১ লাখ ৪০ হাজার টন ইস্পাত। এর মধ্যে ডিসেম্বরে আমদানি করা হয়েছিল ৬ লাখ ৫৩ হাজার টন, যা রফতানি ৪ লাখ ৪২ হাজার টনের তুলনায় বেশি। এছাড়া নভেম্বরে আমদানি করা হয়েছিল ছয় লাখ টন, রফতানি ছিল ৩ লাখ ৩৮ হাজার টন। অক্টোবরে যা ছিল যথাক্রমে ৫ লাখ ৯৩ হাজার টন ও ৩ লাখ ৬০ হাজার টন।

কিছু ব্যবসায়ী রাশিয়া থেকে ২০ শতাংশ কম খরচে আমদানি বৃদ্ধি করায় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ইস্পাতের দাম অভ্যন্তরীণ বাজারের চেয়ে নিচে নেমে যাওয়ায় অন্য রফতানিকারক দেশগুলোর জন্য ভারত বেশ আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে রফতানির ওপর বৈশ্বিক মন্দার চাপ পড়েছে। ভারতের ইস্পাত কারখানাগুলোয় ক্রয়াদেশের পরিমাণ একেবারেই কমে গিয়েছে।

আনন্দ রাঠি শেয়ার অ্যান্ড স্টক ব্রোকার্স লিমিটেডের পরিচালক নাভীন মাথুর বলেন, ডিসেম্বরে টানা তৃতীয় মাসের মতো ভারত নিট আমদানিকারক দেশ হিসেবে নিজের জায়গা ধরে রেখেছে। এর আগে মে মাসের মাঝামাঝি ইস্পাতপণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ রফতানি শুল্কারোপ করা হলে রফতানির পরিমাণ কমে যায়। জুলাই-সেপ্টেম্বরে বিশ্বজুড়ে ধাতবসামগ্রী বিক্রিতে ধীরগতি এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বেড়ে যাওয়া মূলত ভারতের আমদানি বৃদ্ধির কারণ। কিন্তু নভেম্বরের মাঝামাঝি এসে রফতানিতে শুল্ক উঠে যাওয়ায় ভারতের ইস্পাত কারখানাগুলো রফতানি বৃদ্ধির বিষয়ে প্রত্যাশা করতে শুরু করেছে। বিশ্ববাজারেও বাড়তে শুরু করেছে ইস্পাতের দাম, চাহিদা। ফলে নতুন বছরে ভারত থেকে রফতানি বাড়বে বলেও প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ইস্পাত মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরের ইস্পাত আমদানি নভেম্বরের চেয়ে ৯ শতাংশ বেশি ছিল। এক বছর আগের সময়ের তুলনায় তা বেশি ছিল ৬৫ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে, এপ্রিল-ডিসেম্বরের নয় মাসে আমদানি বেড়েছে ২৭ শতাংশ। ডিসেম্বর শেষে যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ লাখ ৪ হাজার টনে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৪ লাখ ৫৮ হাজার টন।

ডিসেম্বরে নন-অ্যালয়েড ইস্পাত আমদানি এক বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার টন।