নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ভারতে দীর্ঘ লকডাউন চলছে। এতে দেশটির বিভিন্ন আর্থিক ও শিল্প খাত কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এতে দেশটিতে জ্বালানি তেলের চাহিদার ব্যাপক পতন দেখা দিয়েছে। কমে এসেছে পণ্যটির পরিশোধন কার্যক্রম। ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা পণ্যটির আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এ ধারাবাহিকতায় গত মাসে ভারতের জ্বালানি তেল আমদানি কমে গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। খবর রয়টার্স ও হিন্দুস্তান টাইমস।
ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ে পেট্রোলিয়াম প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যানালাইসিস সেলের (পিপিএসি) দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে ভারতের ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সব মিলিয়ে ১ কোটি ৪৬ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছেন। আগের মাসে দেশটি সব মিলিয়ে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৫০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানি করেছিল। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে দেশটিতে জ্বালানিটির আমদানি কমেছে ১৯ লাখ ৪০ হাজার টন এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সঙ্গে ২০০৫ সালের পর এটাই দেশটির সর্বোচ্চ মাসভিত্তিক জ্বালানি তেল আমদানি হ্রাসের রেকর্ড।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সঙ্গে সঙ্গে এ সময়ে জ্বালানি তেলজাত পণ্য আমদানিতেও সীমা টেনেছে ভারত। পিপিএসির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে দেশটি সব মিলিয়ে ৩৫ লাখ ৭০ হাজার টন জ্বালানি তেলজাত পণ্য আমদানি করেছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা দশমিক ৮ শতাংশ কম। অন্যদিকে এ সময়ে দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানিতে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। মে মাসে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টন বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলজাত পণ্য রফতানি হয়েছে, ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় যা ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। মূলত দীর্ঘ লকডাউনের জেরে সৃষ্ট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এ সময়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যটির চাহিদা শ্লথ করে দিয়েছে। ফলে লোকসান এড়াতে কোম্পানিগুলো পণ্যটির রফতানি বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। একই কারণে মে মাসে পণ্যটির আমদানিও কমিয়েছে কোম্পানিগুলো।
তবে অবস্থার পরিবর্তন হতে খুব একটা সময় না-ও লাগতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে লকডাউনসহ সরকারি বিধি-নিষেধ শিথিল করে আনা হয়েছে। জ্বালানি তেলের পরিশোধন কার্যক্রমও শিগগিরই স্বাভাবিকে ফিরতে পারে বলে প্রত্যাশা রয়েছে খাতসংশ্লিষ্টদের। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে দেশটিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। তবে মহামারী শুরুর আগের অবস্থানে পৌঁছতে এখনো কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। কারণ ভারতে এখন বর্ষাকাল চলছে। এ সময় দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং খাত এমনিতেই কমে আসে। এছাড়া মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর দেশটির অনেক রাজ্যেই পরিবহনের চাহিদা বেশ কমে এসেছে।










