অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে বর্তমান মাইনাস প্রাইসিং চলছে। তবে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) থেকে পণ্যটির দামে চাঙ্গা ভাব ফিরতে পারে বলে মনে করছে অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক) জোট। ওপেকের রোটেটিং প্রেসিডেন্ট ও আলজেরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী মোহাম্মদ আরকাব সম্প্রতি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আগামী মাস থেকে ওপেকের জ্বালানি তেল উত্তোলন হ্রাস ও বিশ্বজুড়ে লকডাউন নীতি ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে আসা এক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে জ্বালানি পণ্যটির ব্যারেল ৪০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। খবর অয়েলপ্রাইসডটকম ও রয়টার্স।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু নিউজ এজেন্সিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে মোহাম্মদ আরকাব বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিশ্ব অর্থনীতি বর্তমানে যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা খুব বেশিদিন স্থায়ী হবে না। অর্থনীতির এ অবশতা দ্রুতই কাটিয়ে উঠতে পারবে বিশ্ব। এছাড়া আগামী মে ও জুনে ওপেক ও এর মিত্র দেশগুলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন দৈনিক গড়ে ৯৭ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনতে একমত হয়েছে। এ বিষয়গুলো চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে জ্বালানি তেলের বাজারে চাঙ্গা ভাব ফিরিয়ে আনতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

আলজেরিয়ার জ্বালানিমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, নভেল করোনাভাইরাস সর্বপ্রথম চীনে আঘাত হেনেছিল। ফলে দেশটি সবার আগে লকডাউনে চলে যায়। তবে ভাইরাসটির ধকল সামলে দেশটি বর্তমানে স্বাভাবিকে ফিরেছে। অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এ পরিস্থিতি দেশটিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়িয়ে তুলবে। চীন বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ। ফলে দেশটিতে চাহিদা বাড়লে তা সামগ্রিকভাবে পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধিতে প্রভাব বিস্তার করবে।

নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ দৈনিক গড়ে তিন কোটি ব্যারেল কমে গেছে। চাহিদার এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পতনে সম্প্রতি প্রথমবারের মতো পণ্যটির দাম কমে শূন্য ডলারের নিচে নেমে যায়। এ অবস্থায় ওপেক ও নন ওপেক দেশগুলো পণ্যটির উত্তোলন হ্রাস চুক্তিতে বাধ্য হয়। জোটটি আগামী দুই মাসে পণ্যটির সম্মিলিত উত্তোলন দৈনিক গড়ে ৯৭ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওপেকের ইতিহাসে এটাই রেকর্ড জ্বালানি তেল উত্তোলন হ্রাস চুক্তি।

জ্বালানি তেল উত্তোলনের দিক থেকে ওপেকের চতুর্থ বৃহত্তম দেশ কুয়েত এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির সরবরাহ কমিয়ে এনেছে। কুয়েতের জ্বালানি তেলমন্ত্রী খালেদ আল ফাদেল দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে গত সপ্তাহে এ বিষয়ে বলেন, বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। এমনকি পণ্যটির দাম শূন্য ডলারে নেমে এসেছে। ফলে দায়িত্ববোধ থেকেই পণ্যটির বাজার পরিস্থিতির প্রতি এমন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে দেশটি।

এর আগে গত মার্চে কুয়েত জ্বালানি তেলের উত্তোলন ও সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছিল। ওই সময় বিদ্যমান চুক্তির সঙ্গে পণ্যটির উত্তোলন দৈনিক আরো ১৫ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনার বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে মতানৈক্য দেখা দেয় ওপেকের। এতে ওপেকের নতুন চুক্তি ভেস্তে গেলে পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের মতো কুয়েতও ইচ্ছামতো জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন ও সরবরাহ বাড়াতে শুরু করেছিল।