রফতানি বাণিজ্যসংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বিধিবিধান একত্র করে নতুন সমন্বিত নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে পণ্য ও সেবা রফতানি, রফতানি আয় দেশে আনা, ওপেন অ্যাকাউন্টে রফতানি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাণিজ্যিক নথি প্রক্রিয়াকরণ, বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সারদের আয় এবং রফতানি আয়ের ডিজিটাল নিষ্পত্তিসংক্রান্ত নির্দেশনা এক জায়গায় আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ থেকে আজ বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে রফতানি বাণিজ্যসংক্রান্ত আগের নির্দেশনাগুলো রহিত হবে। তবে গাইডলাইনস ফর ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশনস বা জিএফইটির দ্বিতীয় খণ্ডে থাকা প্রতিবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা বহাল থাকবে। নতুন নির্দেশনাগুলো সার্কুলার জারির তারিখ থেকে এক বছর কার্যকর থাকবে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন সমন্বিত নীতিমালায় রফতানি বাণিজ্যের প্রচলিত বিধিবিধানের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ও বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক এক্সপোর্ট ডিক্লারেশন বা ই-এক্সপি ফরম ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। কাস্টমসের ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে রফতানি-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় ও প্রক্রিয়াকরণ সহজ করার নির্দেশনাও এতে রয়েছে।

নীতিমালায় রফতানি আয় দেশে আনার নির্ধারিত সময়সীমা চার মাস বহাল রাখা হয়েছে। তবে কাঁচা পাট ও পাটপণ্য রফতানির ক্ষেত্রে অপরিবর্তনীয় নিশ্চিত এলসি অথবা ওপেন অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ ৩৬০ দিন পর্যন্ত আয় দেশে আনার সুযোগ থাকবে। নির্ধারিত সময়ে রফতানি আয় দেশে না এলে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।

ওপেন অ্যাকাউন্ট ক্রেডিট ব্যবস্থায় রফতানির ক্ষেত্রে বিদেশী ফ্যাক্টরিং প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ট্রেড ফাইন্যান্সার বা বীমা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা কিংবা ঝুঁকি সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে। রফতানিকারকদের জন্য আগাম অর্থপ্রাপ্তির সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে এ ব্যবস্থায় অর্থায়ন ব্যয় বেঞ্চমার্ক সুদহারের ওপর সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত সীমিত থাকবে।

নতুন নীতিমালায় ডকুমেন্টারি কালেকশনের আওতায় রফতানি নথি নিরাপদ ইলেকট্রনিক মাধ্যমে উপস্থাপন ও প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো ধাপে ধাপে ও ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতিতে এ ব্যবস্থা চালু করতে পারবে। এতে রফতানি নথি প্রক্রিয়াকরণে সময় কমার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া ই-কমার্সের মাধ্যমে পণ্য রফতানি, সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা রফতানি, ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ও অন্যান্য বৈধ ডিজিটাল মাধ্যমে রফতানি আয় দেশে আনার বিধানও নতুন সমন্বিত সার্কুলারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন সার্কুলারে ছড়িয়ে থাকা রফতানি বাণিজ্যসংক্রান্ত নির্দেশনাগুলো এক জায়গায় আসায় ব্যাংক ও রফতানিকারকদের জন্য বিধিবিধান অনুসরণ সহজ হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বাণিজ্য, বিকল্প অর্থায়ন ও নতুন ধরনের রফতানি লেনদেন সম্প্রসারণে সহায়ক কাঠামো তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।