অতিকায় আকাশযানের পর এশিয়ায় নতুন ধরনের ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করেছে বোয়িং। এ অঞ্চলে ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্লাইং কারের ব্যবসা শুরু করবে মার্কিন উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারক কোম্পানিটি। মূলত এশিয়ার দেশগুলোর ভবিষ্যৎ পরিবহন চাহিদাকে সামনে রেখে পরিকল্পনা সাজিয়েছে এ এয়ারক্রাফট জায়ান্ট। খবর নিক্কেই এশিয়া।

এশিয়ায় উন্নত ও সর্বশেষ প্রযুক্তির পরিবহনের চাহিদা অতিদ্রুত বাড়ছে। এছাড়া স্বল্প দূরত্বের ভ্রমণে উড়ন্ত যানের ব্যবহার বেড়ে চলছে। এ বিষয়গুলো সামনে রেখে এগোতে চায় বোয়িং। এ বাজারে ফ্লাইং কারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বোয়িংয়ের শীর্ষ প্রযুক্তি কর্মকর্তা টড সিট্রন। সম্প্রতি নতুন এ ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা দেন তিনি।

সহযোগী সংস্থা উইস্ক অ্যারোর কারখানায় ইলেকট্রিক ভার্টিকেল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং (ইভিটিএএল) ক্রাফট নামে পরিচিতি ক্ষুদে এসব উড়ন্ত যান তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন টড সিট্রন। সঙ্গে জানান, ফ্লাইং কারের ক্ষেত্রে নতুন ও বিরল কিছু প্রযুক্তি ব্যবহার করবে বোয়িং। এ কারণে এসব পরিবহন প্রচলিত ইভিটিএএল ক্রাফটের চেয়ে আলাদা হবে।

অবশ্য এশিয়ায় ফ্লাইং কারের ব্যবসা শুরু করার আগে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন। এরই মধ্যে সে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর পরই এ অঞ্চলে ব্যবসার বিস্তারিত চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

বাজার হিসেবে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জাপানসহ অন্যান্য কিছু অঞ্চলকে বেছে নিয়েছে বোয়িং। জাপানের নাগোয়ায় বোয়িং সম্প্রতি নতুন একটি গবেষণা কেন্দ্র চালু করেছে। এ উপলক্ষে আলোচিত অনুষ্ঠানে ফ্লাইং কারের বাজার সম্পর্কে জানান টড সিট্রন।

২০২২ সালে জাপানে প্রথমবারের মতো গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নবিষয়ক কার্যক্রম শুরু করেছিল বোয়িং। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতের বাইরে নাগোয়া বেস কোম্পানিটি এ ধরনের সপ্তম কেন্দ্র। বোয়িং বর্তমানে জাপানে ১২টি দেশের ২৭ জন কর্মী নিয়োগ করেছে। ভবিষ্যতে কর্মী সংখ্যা পর্যায়ক্রমে ৫০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

উড়োজাহাজের নকশা ও উৎপাদন, টেকসই জ্বালানি ও হাইড্রোজেন পাওয়ার সেলের জন্য ডিজিটাল সরঞ্জাম তৈরি করতে নাগোয়া বেস ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছে বোয়িং। এছাড়া পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পদ্ধতিসহ কারখানায় ব্যবহৃত রোবট এবং উড়োজাহাজের উপকরণ নিয়ে গবেষণা পরিচালিত হবে। 

অবশ্য এশিয়ায় ফ্লাইং কার চালু পরিকল্পনা নতুন নয়। সম্প্রতি একাধিক কোম্পানি এ ধরনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। জাপানের দেশীয় স্টার্টআপ স্কাইড্রাইভ ও জার্মানির ভলোকপ্টার এরই মধ্যে পরিষেবার চালুর শিডিউলও ঘোষণা করেছে। আগামী বছর ওসাকা ওয়ার্ল্ড এক্সপোতে এয়ার ট্যাক্সি পরিষেবা চালু করবে বলে জানিয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কয়েক বছরের মধ্যে এয়ার ট্যাক্সি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা নিয়েছে।