জুলাইয়ে ভারতের ভোজ্যতেল আমদানি বেড়ে রেকর্ড ১৭ লাখ ৬০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে। আসন্ন বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে দেশটির পরিশোধন কেন্দ্রগুলো ভোজ্যতেলের মজুদ বাড়াচ্ছে। খবর রয়টার্স।
ডিলাররা জানান, রাশিয়া সম্প্রতি কৃষ্ণ সাগরীয় খাদ্যশস্য রফতানি চুক্তি থেকে সরে এসেছে। ফলে ওই অঞ্চল থেকে খাদ্যশস্য ও তেলবীজ রফতানি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় দাম বেড়ে যাওয়া বা সরবরাহ সংকট দেখা দেয়ার আগেই পরিশোধন কেন্দ্রগুলো বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল আমদানি করে মজুদ করছে।
ভারত বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারক। দেশটির ঊর্ধ্বমুখী আমদানি মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াকে পাম অয়েলের মজুদ কমাতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি পাম অয়েলের বাজার আদর্শ দামও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সয়াবিন তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য বাড়ার ও কৃষ্ণ সাগরীয় দেশগুলোয় সূর্যমুখী তেলের মজুদ কমার প্রত্যাশা করছেন বিশ্লেষকরা।
সলভেন্ট এক্সট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (এসইএ) জানায়, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে ভারত প্রতি মাসে গড়ে ১১ লাখ ৭০ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি করে। জুনে দেশটির আমদানির পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ টন। জুন মাসে দেশটি ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৩৩ টন পাম অয়েল আমদানি করেছিল। জুলাইয়ে তা বেড়ে ১০ লাখ ৯০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে, যা সাত মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ভোজ্যতেলের ব্রোকারেজ ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সানভিন গ্রুপের সিইও সন্দিপ বাজোরিয়া বলেন, ‘পাম অয়েল এবং সূর্যমুখী ও সয়াবিন তেলের মধ্যে দামের ব্যবধান বেড়েছে। পাম অয়েলের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় পরিশোধন কোম্পানিগুলো আসন্ন বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে এর আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে।’
ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী ও ব্রোকার প্রতিষ্ঠান জিজিএনের ম্যানেজিং পার্টনার রাজেশ প্যাটেল বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের কারণে আমদানিকারকরা সম্ভাব্য সংকট এড়ানোর চেষ্টা করছেন। এ লক্ষ্যে তারা ভোজ্যতেলের মজুদ বাড়াচ্ছেন।’
ডিলারদের হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে ভারত ৩ লাখ ৩০ হাজার টন সূর্যমুখী তেল আমদানি করেছে। জুনের তুলনায় আমদানি ৭৩ শতাংশ বেড়েছে। সাত মাসের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ আমদানি। তবে সয়াবিন তেল আমদানি ২২ শতাংশ কমে ৩ লাখ ৪০ হাজার টনে নেমেছে।










