কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ। এ হিসেবে কোম্পানির ১০ শতাংশ বা ৫২৮ জন কর্মী কাজ হারাচ্ছেন। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে স্ন্যাপ কর্তৃপক্ষ। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
গত জানুয়ারিতে অ্যামাজন ও অ্যালফাবেটের মতো বড় কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেয়। ছাঁটাইয়ের সে মিছিলে যুক্ত হয়েছে স্ন্যাপ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ঘোষণায় বেশি প্রভাবিত হবেন প্রতিষ্ঠানের রিমোট ওয়ার্কিং। এর আগে গত বছর কর্মঘণ্টা ও কর্মী সংখ্যা সীমিত করার পরিকল্পনা জানিয়েছিল স্ন্যাপ।
শিকাগোভিত্তিক নিয়োগ প্রতিষ্ঠান চ্যালেঞ্জার, গ্রে অ্যান্ড ক্রিসমাস গত মাসে জানিয়েছে, ২০২৩ সালে প্রযুক্তি খাতে ছাঁটাই হয়েছেন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩২ জন কর্মী, যা খাতভিত্তিক হিসাবে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে শুধু মাইক্রোসফটই ১০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছে।
এদিকে শ্রমবাজারবিষয়ক প্রতিষ্ঠান লেঅফসের ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, চলতি বছরেও শুধু ১২২টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩২ হাজার কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
লেঅফসের প্রতিষ্ঠাতা রজার লি জানিয়েছেন, কভিড-১৯ মহামারীর সময় বিশ্বব্যাপী অনলাইনভিত্তিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে এসব প্রতিষ্ঠান। এছাড়া উচ্চ সুদহার প্রযুক্তির বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় কর্মী ছাঁটাইয়ের এমন প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
অনেকের ধারণা কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাবেও অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে। আবার বিশেষ এ খাতের দক্ষতার কারণেও নতুন কর্মী নিয়োগ হচ্ছে।
এদিকে নিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনসাইট গ্লোবালের প্রধান নির্বাহী বার্ট বিল বলেছেন, কোম্পানিগুলো নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে কর্মী ছাঁটাই করছে। নীতি সুদহার কমার আগ পর্যন্ত আগামী দু-তিন মাস ছাঁটাই চলতে পারে।
ফটো ও ম্যাসেজিং অ্যাপ স্ন্যাপচ্যাটের মালিকানা প্রতিষ্ঠান স্ন্যাপ। সম্প্রতি মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকতে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথমবার কর্মী ছাঁটাই করে স্ন্যাপ।










