যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম ২০১৪ সালের পর থেকে ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। দাম বাড়ার এ হার দেশটির গড় মূল্যস্ফীতির চেয়ে অনেক বেশি। সম্প্রতি মার্কিন স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক কোম্পানি গুডআরএক্স এ তথ্য জানিয়েছে। খবর সিএনবিসি। 

গুডআরএক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম বাড়ার হার গত ১০ বছরের গড় বৃদ্ধির তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে স্বাস্থ্যসেবা বাবদ নাগরিকদের গড় ব্যয় বেড়েছে। বর্তমানে ব্যবস্থাপত্র প্রতি ওষুধ কিনতে গড়ে ১৬ ডলার ২৬ সেন্ট ব্যয় করে থাকে মার্কিনরা।

গুডআরএক্সের গবেষণা বিভাগের পরিচালক টরি মার্শ বলেন, ‘ওষুধ ও চিকিৎসাসেবার দাম বাড়লে ভোক্তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে যারা এমন স্বাস্থ্যবীমার অধীনে আছে, যেখানে বীমা কোম্পানি ব্যয় নির্বাহ শুরুর আগে রোগীকে বড় অংকের অর্থ খরচ করতে হয়। এছাড়া স্বাস্থ্যবীমার আওতায় না থাকা কিংবা চিকিৎসা বাবদ নিজের পকেট থেকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করা ব্যক্তিদের ওপরও এর প্রভাব বেশি পড়ছে।’ 

যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানিগুলো কাজ করে। কম কিস্তির বীমায় সাধারণত বীমাগ্রহীতা চিকিৎসা বাবদ একটি নির্দিষ্ট অংক ব্যয়ের পর বীমা কোম্পানি ব্যয় শুরু করে। এছাড়া বীমাগ্রহীতার সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট অংক অথবা শতকরা হারে ব্যয় ভাগাভাগির পদ্ধতিও অনুসরণ করে কোম্পানিগুলো। তিন পদ্ধতিতেই গত ১০ বছরে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে গেছে।

ওষুধ বাবদ ব্যয় বাড়ার কারণে বীমা কোম্পানিগুলো এতে খরচ কমিয়েছে। ২০১০-২৪ সাল পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ বীমার তথ্য বিশ্লেষণ করে গুডআরএক্স বলছে, বীমা কোম্পানিগুলো এ সময়ের মধ্যে ওষুধ বাবদ ব্যয় ১৯ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। 

টরি মার্শ বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে বিপদে পড়েছে রোগীরা। তারা ফার্মেসিতে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, বীমা কোম্পানিগুলো ওষুধ বাবদ এখন পর্যাপ্ত ব্যয় করছে না। তাদের এমন কৌশল নেয়া উচিত হয়নি।’

হোয়াইট হাউজের তথ্যমতে, উন্নয়নশীল দেশের মানুষের তুলনায় মার্কিন নাগরিকরা ওষুধ কিনতে দুই-তিন গুণ বেশি খরচ করেন। 

এদিকে নির্বাচন সামনে রেখে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্বাস্থ্যসেবার দিকে জোর দিচ্ছেন। ওষুধ কেনা বাবদ নাগরিকদের ব্যয় কমাতে বাইডেন প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। সম্প্রতি সরকারি স্বাস্থ্যবীমা প্রকল্প মেডিকেয়ারের নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার ওপরে দাম বাড়ানোয় ওষুধ কোম্পানিগুলোকে শাস্তি দেয়া হয়। শাস্তি হিসেবে মেডিকেয়ারের আওতাভুক্ত নাগরিকদের জন্য ৬৪টি প্রেসক্রিপশনের /ওষুধের দাম কমানোর ঘোষণা হয়েছে। 

এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে। ফলে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে। এর মধ্যে কেউ কেউ দিনে ৪ হাজার ৫৯৩ ডলার পর্যন্ত ব্যয় কমাতে সক্ষম হবে।