টোকিওর কোর মূল্যস্ফীতি রেকর্ড পর্যায়ে রয়ে গেছে। ডিসেম্বরে জাপানের রাজধানীর ভোক্তা মূল্য সূচক এক বছর আগের তুলনায় ৪ শতাংশ বেড়েছে। এ হার দেশটির ইতিহাসে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশটিতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে পরিবারগুলোয় খরচের চাপ অনেক বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পরিস্থিতি ব্যাংক অব জাপানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ফলাফল হিসেবে ব্যাংকটিকে আরো কঠোর নীতি প্রণয়ন করতে হবে। খবর কিয়োদো নিউজ।

জাপানের কোর মূল্যস্ফীতিতে তাজা খাবারের দাম বাদ দিয়ে হিসাব করা হয়। ডিসেম্বরে টোকিওর কোর মূল্যস্ফীতি ১৯৮২ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। সে সময় কোর মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল। ২০২২ সালে কোর ভোক্তা মূল্য সূচক আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এটি ২০১৪ সালের পর ২ শতাংশের ওপরে রয়েছে। জাপানের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অতীতের ভোক্তা ব্যয়ে করারোপের প্রভাব বাদ দিলে ১৯৯২ সালের পর এটি সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া জাপানি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান রয়েছে। পণ্যের দাম বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি ও কাঁচামালের খরচ মোকাবেলার চেষ্টা করছে। টোকিওর কোর ভোক্তামূল্য সূচক টানা ১৬ মাসের মতো ক্রমবর্ধমান রয়েছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরু হলে প্রথমেই জাপানে বেড়ে যায় জ্বালানি তেলের দাম। ফলে গ্যাসোলিন ও কেরোসিনের দাম ঠিক রাখতে পাইকারি জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দিতে শুরু করে সরকার। এরপর ধীরে ধীরে সবকিছুরই দাম বাড়ে। বিশেষ করে খাদ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। যার রেশ ধরে বাড়তে থাকে মূল্যস্ফীতি।

গত ডিসেম্বরে পচনশীল দ্রব্যের দাম ঠিক এক বছর আগের তুলনায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে যায়। জ্বালানির দাম এখনো অনেক বেশি। শহরে গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা এবং দামও বেশি। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে ব্যাংক অব জাপান। এ অবস্থায় এমন কথাও শোনা যাচ্ছে, জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সামনের দিনগুলোয় মুদ্রানীতি আরো কঠোর করতে যাচ্ছে।